ব্রাজিলের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কনীতি ও অন্যান্য পদক্ষেপ দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত নতুন শুল্ককে প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন হিসেবে তুলে ধরছেন, যা ভোটারদের একটি অংশের সমর্থন তার দিকে টানছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অক্টোবরের নির্বাচনে লুলার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে ফ্লাভিও বলসোনারো। সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দ্বিতীয় দফার সম্ভাব্য লড়াইয়ে লুলা এগিয়ে রয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপ ও রাজনৈতিক চাপের কৌশল বলসোনারো পরিবারের প্রত্যাশিত সুবিধা এনে দিতে পারেনি; বরং তা জাতীয়তাবাদী মনোভাবকে আরও জোরালো করেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন ব্রাজিলের বিভিন্ন পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের পাশাপাশি দেশটির বাণিজ্যনীতি ও সরকারি ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা ‘পিক্স’ নিয়ে আপত্তি তুলেছে। একই সময়ে বলসোনারো পরিবারের বিরুদ্ধে চলমান আইনি প্রক্রিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগও রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ব্রাজিলের ব্যবসায়ী মহল ও সাধারণ ভোটারদের একটি বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন না। তাদের ধারণা, ব্রাজিলের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত দেশের ভেতরেই নির্ধারিত হওয়া উচিত। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি ও কূটনৈতিক পদক্ষেপ লুলার নির্বাচনী প্রচারণার জন্য অতিরিক্ত রাজনৈতিক সুবিধা তৈরি করতে পারে।
















