মতামতধর্মী এই বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও কাতারকে কেন্দ্র করে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) দেশগুলোতে তুরস্কের প্রতিরক্ষা রপ্তানি গত দুই দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এসআইপিআরআইর তথ্য অনুযায়ী, ২০২১–২৫ সময়ে বিশ্ব অস্ত্র রপ্তানিতে তুরস্কের অংশ দ্বিগুণ হয়ে ১ দশমিক ৮ শতাংশে পৌঁছেছে এবং দেশটি বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল অস্ত্র রপ্তানিকারকে পরিণত হয়েছে।
বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে, তুরস্কের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এখন শুধু অস্ত্র বিক্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; প্রযুক্তি হস্তান্তর, যৌথ উৎপাদন, প্রশিক্ষণ এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ইডজ গ্রুপ ও তুরস্কের বায়কারের যৌথ উদ্যোগকে এই পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১ সালের আল-উলা ঘোষণার পর উপসাগরীয় অঞ্চলে রাজনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ায় আঙ্কারা ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা অংশীদারদের বৈচিত্র্য আনা এবং নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প শক্তিশালী করার কৌশলও জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর তুরস্কমুখী হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, দ্রুত সরবরাহ, তুলনামূলক কম ব্যবহারগত বিধিনিষেধ এবং স্বদেশে তৈরি উন্নত সামরিক প্রযুক্তি তুরস্ককে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনের মতো প্রতিষ্ঠিত অস্ত্র রপ্তানিকারকদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রাখছে। তবে ভবিষ্যতে এই অবস্থান ধরে রাখতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, সময়মতো সরবরাহ এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বজায় রাখা তুরস্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হবে।
















