ভারত ও নরওয়ে সম্প্রতি ‘গ্রিন স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’ গঠন করেছে, যার লক্ষ্য জ্বালানি নিরাপত্তা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস এবং সবুজ প্রযুক্তিতে সহযোগিতা জোরদার করা। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, পশ্চিম এশিয়ার জ্বালানির ওপর ভারতের উচ্চ নির্ভরতার প্রেক্ষাপটে এই অংশীদারত্ব দেশটির জ্বালানি উৎস বহুমুখীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ভারত বর্তমানে তার এলপিজির প্রায় ৯০ শতাংশ এবং এলএনজির প্রায় ৬০ শতাংশ পশ্চিম এশিয়া থেকে আমদানি করে। সাম্প্রতিক আঞ্চলিক অস্থিরতার কারণে এই নির্ভরতা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় বিশ্বের অন্যতম বড় প্রাকৃতিক গ্যাস ও এলপিজি রপ্তানিকারক নরওয়ের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সহযোগিতা ভারতের জন্য বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহায়ক হতে পারে।
বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, দুই দেশের সহযোগিতা শুধু তেল-গ্যাস বাণিজ্যে সীমাবদ্ধ নয়; ভাসমান অফশোর উইন্ড (Floating Offshore Wind), কার্বন ক্যাপচার, ব্যবহার ও সংরক্ষণ (CCUS) প্রযুক্তি এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানি গবেষণার ক্ষেত্রেও যৌথ উদ্যোগের সুযোগ সৃষ্টি করবে। নরওয়ের প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা ভারতের নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও শিল্প খাতে কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যে সহায়ক হতে পারে।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ভারতের ২০৭০ সালের মধ্যে নেট-শূন্য কার্বন নিঃসরণ অর্জনের লক্ষ্য এবং নরওয়ের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি প্রযুক্তিতে অগ্রগতির মধ্যে এই অংশীদারত্ব একটি কৌশলগত সমন্বয় তৈরি করছে। পাশাপাশি ব্যাটারি, সেমিকন্ডাক্টর ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি প্রযুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ নিয়েও ভবিষ্যতে সহযোগিতার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মত দেওয়া হয়েছে।
মতামতধর্মী এই বিশ্লেষণে উপসংহারে বলা হয়েছে, ভারত–নরওয়ে অংশীদারত্ব দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা, জলবায়ু লক্ষ্য অর্জন এবং সবুজ শিল্পায়নের ক্ষেত্রে উভয় দেশের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।
















