গাজার নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে এক বিমান হামলায় গুরুতর আহত হন ৪২ বছর বয়সী নাজওয়া আবু আতিওয়ি। হামলায় তিনি একটি চোখ হারান, মুখে জটিল আঘাত পান এবং পরে জানতে পারেন, ওই হামলাতেই তার ছয় বছর বয়সী মেয়ে হাজর নিহত হয়েছে। দীর্ঘ সময় কোমায় থাকার পর জ্ঞান ফিরলেও প্রথমদিকে পরিবারের সদস্যরা তার শারীরিক অবস্থা ও মেয়ের মৃত্যুর খবর গোপন রেখেছিলেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাজওয়ার মুখ ও চোয়ালে একাধিক অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। এখনো তিনি স্বাভাবিকভাবে কথা বলা, মুখ খুলে খাওয়া এবং চলাফেরায় সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। চিকিৎসকদের মতে, প্রয়োজনীয় বিশেষায়িত চিকিৎসার কিছু ধাপ গাজার বাইরে সম্পন্ন করতে হবে, তবে এখনো তিনি সেখানে যাওয়ার অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছেন।
চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, নাজওয়ার মতো জটিল মুখমণ্ডল ও চোখের আঘাতের চিকিৎসা বহু ধাপে সম্পন্ন করতে হয়। তবে গাজায় চিকিৎসক থাকলেও প্রয়োজনীয় ওষুধ, অস্ত্রোপচারের সরঞ্জাম এবং চিকিৎসা উপকরণের ঘাটতির কারণে চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শারীরিক ক্ষতির পাশাপাশি নাজওয়া গভীর মানসিক আঘাতও বহন করছেন। মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধের ফলে মুখমণ্ডলের বিকৃতি, স্বজন হারানো এবং দীর্ঘমেয়াদি ট্রমা অনেকের মধ্যে পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার (পিটিএসডি), বিষণ্নতা ও আত্মপরিচয় সংকট সৃষ্টি করছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গাজায় যুদ্ধাহতদের উল্লেখযোগ্য অংশের দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন প্রয়োজন।
নাজওয়া বলেন, তিনি একদিন আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চান এবং যুদ্ধ তার কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া আত্মবিশ্বাস ও জীবনকে যতটা সম্ভব পুনরুদ্ধার করার আশা ধরে রেখেছেন।
















