মালির উত্তরাঞ্চলে সাম্প্রতিক এক হামলায় অন্তত ৫০ সেনা নিহত হওয়ার ঘটনায় দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বিচ্ছিন্নতাবাদী ও ইসলামপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ক্রমবর্ধমান সমন্বয় মালির সামরিক সরকারের নিরাপত্তা কৌশলকে আরও কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে।
১৮ জুলাই আনেফিস এলাকার কাছে মালির সেনাবাহিনী ও রাশিয়ার আফ্রিকা কর্পসের যৌথ বহরে হামলার দায় স্বীকার করেছে আজাওয়াদ লিবারেশন ফ্রন্ট (এফএলএ) এবং আল-কায়েদা-ঘনিষ্ঠ জামাআত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়াল-মুসলিমিন (জেএনআইএম)। বিশ্লেষকদের মতে, আদর্শগত পার্থক্য থাকলেও উভয় গোষ্ঠী বর্তমানে একই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়াই করায় কৌশলগতভাবে একসঙ্গে কাজ করছে।
মালির সামরিক সরকার পশ্চিমা অংশীদারদের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা কমিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদার করেছে। তবে বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, রাশিয়ার সামরিক সহায়তা সেনাবাহিনীর যুদ্ধ সক্ষমতা বাড়ালেও সংঘাতের রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও নিরাপত্তাগত মূল কারণগুলো এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০১৫ সালের আলজিয়ার্স শান্তি চুক্তি কার্যত অকার্যকর হয়ে যাওয়া এবং জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনের প্রত্যাহারের পর উত্তর মালিতে সংঘাত আরও জটিল হয়েছে। এর ফলে আগে পৃথকভাবে সক্রিয় থাকা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এখন আরও সমন্বিতভাবে হামলা পরিচালনা করছে।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, মালির এই পরিস্থিতি প্রতিবেশী নাইজার ও বুরকিনা ফাসোসহ পুরো সাহেল অঞ্চলের নিরাপত্তার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। যদি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর এই সহযোগিতা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে সীমান্তজুড়ে নিরাপত্তা সংকট আরও বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
















