দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে ইয়েমেনে ক্রমেই বাড়ছে নারী উদ্যোক্তার সংখ্যা। কর্মসংস্থানের সংকট ও পরিবারের আয় কমে যাওয়ায় অনেক নারী এখন ছোট ব্যবসা গড়ে তুলে সংসারের প্রধান আর্থিক সহায়তাকারীর ভূমিকা পালন করছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন শুধু পরিবারের অর্থনীতিতেই নয়, দেশটির সামাজিক বাস্তবতাতেও নতুন মাত্রা যোগ করছে।
তাইজ শহরের ‘আবু সুলতান’ নামে একটি ফাস্টফুড রেস্তোরাঁ পরিচালনা করছেন স্বামী-স্ত্রী বালিগ আল-দোবাঈ ও আজিজা। বালিগ রান্নাঘরের দায়িত্বে থাকলেও পুরো ব্যবসার ব্যবস্থাপনা সামলাচ্ছেন আজিজা। সৌদি আরব থেকে ফিরে নতুন ব্যবসা শুরু করতে গিয়ে অর্থসংকটে পড়লেও স্ত্রীর সহায়তায় উদ্যোগটি সফলভাবে চালু করতে সক্ষম হয়েছেন বলে জানান বালিগ।
আজিজা বলেন, শুরুতে সমাজের অনেকেই নারীর রেস্তোরাঁ পরিচালনা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন। তবে পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে তিনি গ্রাহকদের আস্থা অর্জন করেছেন। তার ভাষায়, তারা মালিক-কর্মচারী হিসেবে নয়, বরং সমান অংশীদার হিসেবে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। কাজ শেষে পারিবারিক জীবনেও দায়িত্ব ভাগাভাগি করে নিচ্ছেন এই দম্পতি।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, ইয়েমেনের বাজারে নারী পরিচালিত ব্যবসার সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। অনেক ক্রেতা পরিচ্ছন্নতা, সেবার মান ও আন্তরিকতার কারণে নারী উদ্যোক্তাদের প্রতিষ্ঠানে কেনাকাটা করতে আগ্রহী হচ্ছেন। ফলে প্রচলিত ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতায় নারীরা ক্রমেই শক্ত অবস্থান তৈরি করছেন।
সমাজবিজ্ঞানী ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরুষদের উচ্চ বেকারত্ব এবং যুদ্ধের কারণে বহু পরিবারের উপার্জন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নারীরা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে আরও সক্রিয় হচ্ছেন। এতে পরিবারগুলোর জীবনমান উন্নত হওয়ার পাশাপাশি নারী সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও বেশি ভূমিকা পাচ্ছেন। মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলোর বিভিন্ন কর্মসূচিও নতুন নারী উদ্যোক্তা তৈরিতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
















