ভারতে এখন অধিকাংশ পেট্রোল পাম্পে শুধুমাত্র ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত ই–২০ (E20) পেট্রোল বিক্রি হচ্ছে। তবে সরকারের এই দ্রুত বাস্তবায়িত নীতিকে ঘিরে গাড়ির মালিকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, নতুন জ্বালানি ব্যবহারের পর গাড়ির মাইলেজ কমেছে, ইঞ্জিনের কর্মক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে এবং রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বেড়েছে।
ভারত সরকার ২০৩০ সালের পরিবর্তে ২০২৫ সালের মধ্যেই ই–২০ জ্বালানি বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নেয়। সরকারের দাবি, এই উদ্যোগের মাধ্যমে আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেলের ওপর নির্ভরতা কমবে, জ্বালানি নিরাপত্তা বাড়বে, গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমবে এবং আখ ও ভুট্টার মতো ফসলের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়ে কৃষকের আয় বাড়বে।
তবে অনেক গাড়িচালকের অভিজ্ঞতা ভিন্ন। তাদের অভিযোগ, আগের তুলনায় প্রতি লিটারে ১০ শতাংশেরও বেশি মাইলেজ কমে গেছে, গাড়ির গতি কমে গেছে এবং বিশেষ করে ওভারটেকিং বা উঁচু পথে চলার সময় ইঞ্জিনের শক্তি আগের মতো থাকছে না।
স্বাধীন অটোমোবাইল বিশেষজ্ঞদের মতে, ইথানলে প্রতি লিটারে শক্তির পরিমাণ সাধারণ পেট্রোলের তুলনায় কম হওয়ায় একই দূরত্ব অতিক্রম করতে বেশি জ্বালানি প্রয়োজন হয়। এছাড়া যেসব পুরোনো গাড়ি ই–২০ উপযোগী নয়, সেগুলোর জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার রাবার পাইপ, সিল ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
অন্যদিকে ভারতের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয় বলছে, ই–২০ জ্বালানিতে ইঞ্জিনের উল্লেখযোগ্য ক্ষতি বা বড় ধরনের মাইলেজ কমে যাওয়ার দাবির পক্ষে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। সরকারি গবেষণার বরাত দিয়ে তারা জানিয়েছে, ই–২০ উপযোগী গাড়িতে জ্বালানি দক্ষতা মাত্র ১ থেকে ২ শতাংশ কমতে পারে এবং নিয়মিত সার্ভিসিংয়ের মাধ্যমে সম্ভাব্য ক্ষয় সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
এদিকে বিরোধী দলগুলো পরিবহনমন্ত্রী নীতিন গড়করির বিরুদ্ধে স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ তুলেছে। তাদের দাবি, গড়করির পরিবারের সঙ্গে ইথানল উৎপাদন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে। যদিও গড়করি এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, ইথানল উৎপাদন ও মূল্য নির্ধারণের সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভা যৌথভাবে গ্রহণ করে এবং তার পরিবারের ব্যবসার অংশ দেশের মোট ইথানল উৎপাদনের খুবই সামান্য অংশ।
বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করে বলেছেন, ইথানল উৎপাদনের জন্য আখের মতো অতিরিক্ত পানি-নির্ভর ফসলের চাষ বাড়লে ভবিষ্যতে পানিসম্পদের ওপর চাপ বৃদ্ধি এবং খাদ্যশস্যের পরিবর্তে জ্বালানির কাঁচামাল উৎপাদনের প্রবণতা তৈরি হতে পারে।
















