মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা সংকটের প্রেক্ষাপটে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌবাণিজ্য পথ মালাক্কা প্রণালির কৌশলগত গুরুত্ব আরও বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার সামুদ্রিক সহযোগিতা নতুন ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি করছে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত।
সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষা সহযোগিতার একটি নতুন কাঠামোতে সম্মতি হয়েছে। এর পাশাপাশি মালাক্কা প্রণালির প্রবেশমুখে অবস্থিত সাবাং বন্দরের যৌথ উন্নয়নের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভারতের প্রভাব আরও শক্তিশালী করবে।
মালাক্কা প্রণালি বর্তমানে বৈশ্বিক সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এবং সমুদ্রপথে তেল পরিবহনের প্রায় অর্ধেক বহন করে। ভারত মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরকে সংযুক্ত করা এই জলপথ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, চীনের বিপুল পরিমাণ জ্বালানি আমদানি এবং রপ্তানি এই প্রণালির ওপর নির্ভরশীল। তাই এই জলপথে যেকোনো ধরনের বিঘ্ন দেশটির অর্থনীতি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে চীন বিকল্প বাণিজ্যপথ তৈরির চেষ্টা করলেও মালাক্কা প্রণালির গুরুত্ব এখনও অটুট রয়েছে।
অন্যদিকে ভারতের গ্রেট নিকোবর প্রকল্প এবং ইন্দোনেশিয়ার সাবাং বন্দর একসঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক করিডোর গড়ে তুলতে পারে। এর মাধ্যমে দুই দেশ জলদস্যুতা, চোরাচালান, অবৈধ মৎস্য শিকার, সামুদ্রিক দূষণ এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সহযোগিতা শুধু নিরাপত্তা নয়, আঞ্চলিক বাণিজ্য, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং নৌপরিবহন অবকাঠামো উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। একই সঙ্গে ভারত দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সংযোগ জোরদার করে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।
প্রবন্ধে আরও বলা হয়েছে, ভারতের নিরাপত্তা কৌশল দীর্ঘদিন স্থলসীমা ঘিরে আবর্তিত হলেও বর্তমানে দেশটি সামুদ্রিক নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। মালাক্কা প্রণালির পশ্চিম প্রবেশমুখে অবস্থান শক্তিশালী করার মাধ্যমে ভারত ভবিষ্যতের আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বাণিজ্য ব্যবস্থায় আরও প্রভাবশালী অবস্থান অর্জনের চেষ্টা করছে।
















