পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে নিরাপত্তা বাহিনী ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষে অন্তত ৯ জন নিহত হওয়ার পর রাজধানী মুজাফফরাবাদের উদ্দেশে ঘোষিত বিক্ষোভ মিছিল সাময়িকভাবে স্থগিত হয়েছে। জুনের শুরু থেকে চলমান আন্দোলনে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৮ জন নিহত এবং ৭৯ জন আহত হয়েছেন।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুঞ্চ জেলার রাওয়ালাকোটের উপকণ্ঠে একটি বাড়িতে অস্ত্রের মজুদের তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালাতে গেলে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর গুলি চালানো হয়। এতে এক কর্মকর্তা নিহত হন।
অন্যদিকে সুদনোতি জেলায় একটি নিরাপত্তা বহরের পথরোধ করে বিক্ষোভকারীরা। কর্মকর্তাদের দাবি, সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর পাথর নিক্ষেপ ও গুলিবর্ষণ করা হলে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে সাত বিক্ষোভকারী এবং এক পুলিশ সদস্য নিহত হন। পুলিশের ভাষ্য, তারা আত্মরক্ষার্থে পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছে।
গত ৫ জুন জম্মু-কাশ্মীর যৌথ আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি)-কে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে নিষিদ্ধ ঘোষণার পর থেকেই অঞ্চলটিতে দফায় দফায় সহিংসতা চলছে। এই সংগঠনই বর্তমানে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে।
বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত জেএএসি-সমর্থিত বিক্ষোভকারীরা রাওয়ালাকোটেই অবস্থান করছিলেন। যদিও তারা দুপুরে মুজাফফরাবাদের উদ্দেশে যাত্রার ঘোষণা দিয়েছিলেন। নিরাপত্তাজনিত কারণে অঞ্চলটিতে ইন্টারনেট ও মোবাইল যোগাযোগও ব্যাপকভাবে সীমিত করা হয়েছে।
এই আন্দোলনের মূল কারণ রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ। পাকিস্তানে বসবাসকারী ১৯৪৭ সালের কাশ্মীরি শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত ১২টি আইনসভা আসন বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছে জেএএসি। তাদের অভিযোগ, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে পাকিস্তানভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলো পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরের রাজনীতিতে অতিরিক্ত প্রভাব বিস্তার করছে এবং উন্নয়ন তহবিলও অন্যত্র চলে যাচ্ছে।
তবে গত মাসে অঞ্চলটির সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয় যে, সংরক্ষিত আসনগুলো সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত এবং সংবিধান সংশোধন ছাড়া এগুলো বাতিল করা সম্ভব নয়। এরপর থেকেই আন্দোলন আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
আগামী ২৭ জুলাই পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সম্ভাব্য বিক্ষোভ মোকাবিলায় অঞ্চলজুড়ে প্রায় ৪ হাজার পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
















