সমুদ্রের নিচে নজরদারি ও সাবমেরিন প্রতিরোধ সক্ষমতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের সামুদ্রিক প্রতিরক্ষায় শুধু যুদ্ধজাহাজ বা অস্ত্র নয়, বরং তথ্য বিশ্লেষণের গতি ও নির্ভুলতাই বড় ভূমিকা পালন করবে।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় উন্নত শব্দ শনাক্তকরণ ব্যবস্থা, পানির তাপমাত্রা বিশ্লেষণ, প্রপেলারের শব্দ শনাক্তকরণ এবং বিভিন্ন সেন্সরের তথ্য একত্র করে পানির নিচে থাকা লক্ষ্যবস্তুকে দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে। একই সঙ্গে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে কোনো বস্তু মিত্র, নিরপেক্ষ নাকি প্রতিপক্ষের তা নির্ধারণও সহজ হচ্ছে।
বিশেষ করে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোকে কেন্দ্র করে প্রতিযোগিতা তীব্র হচ্ছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রণালীগুলোতে বিভিন্ন দেশ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসমৃদ্ধ নজরদারি ব্যবস্থা, স্বয়ংক্রিয় পানির নিচের যান এবং উন্নত সেন্সর নেটওয়ার্ক স্থাপনে জোর দিচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতাও নতুন মাত্রা পেয়েছে। দুই দেশ যৌথভাবে সাবমেরিন শনাক্তকারী ভাসমান যন্ত্র উৎপাদন, স্বয়ংক্রিয় সামুদ্রিক ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম প্রযুক্তি তৈরিতে কাজ করছে।
এছাড়া এমন স্বয়ংক্রিয় পানির নিচের পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা তৈরি হচ্ছে, যা কয়েক বছর পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে সমুদ্রে অবস্থান করে তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে। এসব প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক অবকাঠামো রক্ষা এবং সম্ভাব্য হুমকি আগেভাগে শনাক্ত করতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ভারতের নৌবাহিনীর সাবেক প্রধানও ভবিষ্যৎ সামুদ্রিক প্রতিরক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক যুদ্ধব্যবস্থা, স্বয়ংক্রিয় প্ল্যাটফর্ম এবং উন্নত নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, আগামী দিনের প্রতিযোগিতা শুধু উন্নত সামরিক প্ল্যাটফর্ম তৈরির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। সমুদ্র থেকে সংগৃহীত বিপুল তথ্য সবচেয়ে দ্রুত ও কার্যকরভাবে বিশ্লেষণ করতে পারবে যে দেশ, পানির নিচের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় তারাই কৌশলগত সুবিধা অর্জন করবে।
















