পশ্চিম সাহারা নিয়ে মরক্কোর সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দেওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্ক নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে। সেই ধারাবাহিকতায় ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নুর প্রথম সরকারি বিদেশ সফর মরক্কোতে হওয়ায় প্যারিস ও রাবাতের মধ্যকার কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও গভীর হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে।
দুই দিনের এই সফরে প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। লেকর্নুর সঙ্গে প্রায় এক ডজন মন্ত্রীও সফরে অংশ নিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ভিসা নীতি, গোয়েন্দা সহযোগিতা, বিচারিক বিরোধ এবং পশ্চিম সাহারা প্রশ্নে ফ্রান্সের অবস্থান নিয়ে দুই দেশের সম্পর্কে যে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছিল, ২০২৪ সালে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ মরক্কোর দাবি স্বীকৃতি দেওয়ার পর তা দ্রুত বদলে যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আফ্রিকা ও সাহেল অঞ্চলে চীন, তুরস্ক, উপসাগরীয় দেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের মুখে উত্তর আফ্রিকায় নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে মরক্কোকে আরও গুরুত্ব দিচ্ছে ফ্রান্স।
একই সঙ্গে ইউরোপ ও আফ্রিকার মধ্যে বাণিজ্যিক প্রবেশদ্বার হিসেবে মরক্কোর অবস্থানও শক্তিশালী হয়েছে। ট্যাঞ্জিয়ার মেড বন্দর, শিল্পাঞ্চল, পরিবহন করিডর এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প দেশটিকে ইউরোপীয় বিনিয়োগকারীদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
মরক্কোর জন্যও এই সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ফরাসি বিনিয়োগের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বিগ ডেটা, উন্নত উৎপাদন প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা শিল্প ও ডিজিটাল প্রযুক্তিতে সহযোগিতা দেশটির দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই কূটনৈতিক পুনর্মিলন শুধু ঐতিহাসিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নয়; বরং উত্তর আফ্রিকার নিরাপত্তা, বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার প্রচেষ্টা।
















