আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)-এর বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত নিষেধাজ্ঞাকে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান ও নাগরিক অধিকারবিরোধী দাবি করে নতুন আইনি চ্যালেঞ্জ দায়ের করা হয়েছে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ডন (DAWN) এবং ট্যাক্সপেয়ার্স অ্যালায়েন্স অ্যাগেইনস্ট জেনোসাইড (TAAG) যৌথভাবে মামলাটি করেছে। তাদের অভিযোগ, আইসিসি ও ফিলিস্তিনপন্থী মানবাধিকার সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং তথ্য আদান-প্রদানের সাংবিধানিক অধিকারকে ক্ষুণ্ন করছে।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে আইসিসি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর ট্রাম্প প্রশাসন আদালতের কর্মকর্তা, তদন্ত-সহায়তাকারী ব্যক্তি ও সংগঠনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
এর আওতায় আইসিসির বিচারক ও কৌঁসুলিদের পাশাপাশি আদালতকে তথ্য সরবরাহকারী কয়েকটি ফিলিস্তিনি সংগঠন এবং জাতিসংঘের ফিলিস্তিনবিষয়ক বিশেষ দূত ফ্রান্সেসকা আলবানেজের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।
বাদীপক্ষের দাবি, এসব পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৭৭ সালের ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট (IEEPA)-এরও লঙ্ঘন। কারণ এই আইন ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও তথ্য বিনিময়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপে প্রেসিডেন্টকে সীমাবদ্ধ রাখে।
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছেন, আইসিসির বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং আদালতকে দুর্বল করতে “সমগ্র সরকারভিত্তিক” কৌশল গ্রহণ করা হচ্ছে। তার ভাষায়, আইসিসি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও বিচারিক ব্যবস্থার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির প্রতিষ্ঠাতা রোম সংবিধির সদস্য নয়। তবে আদালতের অবস্থান হলো, সদস্য রাষ্ট্রের ভূখণ্ডে সংঘটিত অপরাধের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধেও তদন্ত চালানো যেতে পারে।
















