যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে দুই দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে ইরাক। ওয়াশিংটনে সফররত ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদির সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অর্থনৈতিক সহযোগিতা, জ্বালানি খাত ও বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও একই দিনে ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
হোয়াইট হাউসে বৈঠকে ট্রাম্প ইরাকের তেল উৎপাদন বৃদ্ধি, নতুন অর্থনৈতিক চুক্তি এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও গভীর করার কথা বলেন। একই সঙ্গে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার ঋণ পাওয়ার লক্ষ্যেও আলোচনা চালাচ্ছে বাগদাদ।
অন্যদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়াদের নিরস্ত্র করার ওপর জোর দেন। তার ভাষায়, ইরাককে নিজের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করে এসব সশস্ত্র গোষ্ঠীর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে।
তবে ইরান-সমর্থিত কাতাইব হিজবুল্লাহ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু করে, তবে তারা তাৎক্ষণিকভাবে যুদ্ধে অংশ নেবে। এতে ইরাকের ভেতর থেকেই আঞ্চলিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরাক একদিকে তেল, বিনিয়োগ ও নিরাপত্তা সহযোগিতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল, অন্যদিকে ধর্মীয়, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পর্কের কারণে ইরানের সঙ্গেও গভীরভাবে সংযুক্ত। ফলে কোনো একটি পক্ষের অবস্থান পুরোপুরি গ্রহণ করা বাগদাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন।
তাদের মতে, উত্তেজনা আরও বাড়লে ইরাকে নিরাপত্তা সংকট, রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিদেশি বিনিয়োগে স্থবিরতা, বাণিজ্য ব্যাহত হওয়া এবং নতুন মানবিক সংকট তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে ইরাক আবারও আঞ্চলিক প্রক্সি সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
















