নতুন বছর, জন্মদিন, সপ্তাহের প্রথম দিন কিংবা বছরের মাঝামাঝি সময়—এ ধরনের বিশেষ মুহূর্ত মানুষকে নতুনভাবে শুরু করার অনুপ্রেরণা দেয়। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, এই ‘নতুন শুরুর’ অনুভূতি মানুষের আচরণ পরিবর্তন, নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ এবং ভালো অভ্যাস গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, নতুন বছরের শুরুতে নেওয়া অনেক অঙ্গীকার শেষ পর্যন্ত পূরণ না হলেও, নির্দিষ্ট সময়কে নতুন সূচনা হিসেবে গ্রহণ করলে মানুষ লক্ষ্য অর্জনের প্রতি বেশি মনোযোগী হয়। তবে এর জন্য নতুন বছরের অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। জন্মদিন, মাসের শুরু, এমনকি সপ্তাহের প্রথম দিনও ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন লক্ষ্য ঠিক করার পাশাপাশি সেই লক্ষ্যকে দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত করাই দীর্ঘমেয়াদি সফলতার মূল চাবিকাঠি। কোনো কাজ নিয়মিত একই সময় ও একই পরিবেশে করতে থাকলে ধীরে ধীরে সেটি স্বাভাবিক অভ্যাসে পরিণত হয় এবং তখন তা করতে আলাদা করে মানসিক চাপ বা ইচ্ছাশক্তির প্রয়োজন হয় না।
গবেষকদের মতে, একটি নতুন অভ্যাস গড়ে তুলতে গড়ে প্রায় দুই মাসের বেশি সময় লাগতে পারে। তবে অভ্যাসের ধরন অনুযায়ী এই সময় আরও কম বা বেশি হতে পারে। তাই শুরুতে ধৈর্য ধরে নিয়মিত চর্চা চালিয়ে যাওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞরা আরও পরামর্শ দিয়েছেন, বড় ও কঠিন লক্ষ্য নির্ধারণের বদলে ছোট ও বাস্তবসম্মত লক্ষ্য নেওয়া উচিত। যেমন প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় হাঁটা, পর্যাপ্ত পানি পান করা বা অল্প সময় ব্যায়াম করার মতো সহজ কাজ দিয়ে শুরু করলে সফল হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
খারাপ অভ্যাস ত্যাগের ক্ষেত্রেও বিকল্প ভালো অভ্যাস তৈরি করার পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকরা। কোনো অভ্যাস হঠাৎ বন্ধ করার পরিবর্তে তার জায়গায় নতুন ইতিবাচক অভ্যাস গড়ে তুললে দীর্ঘমেয়াদে তা ধরে রাখা সহজ হয়।
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, শুধু লক্ষ্য অর্জনের ফল নয়, সেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর পুরো প্রক্রিয়াটি উপভোগ করাও জরুরি। যে কাজ করতে আনন্দ পাওয়া যায়, সেই অভ্যাস দীর্ঘদিন ধরে বজায় রাখার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
এছাড়া দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য পূরণের পথে মাঝামাঝি সময়ে অনুপ্রেরণা কমে যাওয়া স্বাভাবিক। এ সময় বড় লক্ষ্যকে ছোট ছোট ধাপে ভাগ করে নিয়মিত অগ্রগতি মূল্যায়ন করলে উৎসাহ ধরে রাখা সহজ হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো দিন লক্ষ্য পূরণ না হলে সেটিকে ব্যর্থতা হিসেবে না দেখে শেখার সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করা উচিত। ধারাবাহিক চর্চা, বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা এবং ইতিবাচক মানসিকতাই শেষ পর্যন্ত ভালো অভ্যাসকে স্থায়ী করে তোলে।
















