যুদ্ধবিরতি সম্প্রসারণে সমঝোতা হওয়ার কয়েক সপ্তাহ পরও ইরানের পরিস্থিতি অনিশ্চিত রয়ে গেছে। সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও নতুন সামরিক হামলার ঘটনায় যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত পুরোপুরি শেষ হলেও বহু বছরের নিষেধাজ্ঞা, অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থাপনা এবং সাম্প্রতিক যুদ্ধের ক্ষতি কাটিয়ে অর্থনীতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে দীর্ঘ সময় লাগবে।
দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকটের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাত দেশের শিল্পকারখানা, জ্বালানি অবকাঠামো, পরিবহন ব্যবস্থা এবং যোগাযোগ খাতকে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে ফেলেছে। এর পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব এবং ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বার্ষিক মূল্যস্ফীতি আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। খাদ্যপণ্যের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। ভোজ্যতেল, মাংস, পোলট্রি, রুটি ও শস্যজাতীয় পণ্যের মূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।
সরকারি হিসাবে বেকারত্বের হার তুলনামূলক কম দেখানো হলেও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর বড় অংশ নিয়মিত কর্মসংস্থানের বাইরে রয়েছে। তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার আরও বেশি। একই সঙ্গে অনেক কর্মজীবীকে সপ্তাহে অতিরিক্ত সময় কাজ করেও জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, যুদ্ধ বন্ধ থাকলে খুচরা ব্যবসা, পরিবহন, নির্মাণ ও সেবা খাতের কিছু কর্মসংস্থান দ্রুত ফিরতে পারে। তবে যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল ও উৎপাদন সক্ষমতা হারিয়েছে, সেগুলো পুনরায় চালু করতে কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। এর জন্য বিপুল বিনিয়োগ ও বিদেশি অর্থায়নেরও প্রয়োজন হবে।
সাম্প্রতিক হামলায় জ্বালানি স্থাপনা, শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎ অবকাঠামো, বন্দর, বিমানবন্দর, সড়ক, সেতু এবং আবাসিক এলাকাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিছু স্থাপনা পুনরায় চালুর কাজ শুরু হলেও পূর্ণ পুনর্গঠনের পথ এখনও দীর্ঘ।
বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের সীমিত আর্থিক সক্ষমতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে। বাজেট ঘাটতি পূরণ, সরকারি ব্যয় এবং পুনর্গঠনের অর্থ জোগাড় করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়তে পারে।
অন্যদিকে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনেও মতপার্থক্য স্পষ্ট। একদিকে আলোচনার মাধ্যমে অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে ওঠার পক্ষে সরকারের অবস্থান, অন্যদিকে কঠোর অবস্থানের সমর্থকেরা কোনো ধরনের সমঝোতার বিরোধিতা করছেন। ফলে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাও ভবিষ্যতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
















