পৃথিবীর অক্ষের হেলানো অবস্থান এবং উত্তর গোলার্ধের গ্রীষ্মকালীন সময়ের কারণে ৮ জুলাই সমন্বিত বিশ্বসময় অনুযায়ী প্রায় ১১টা ১০ মিনিটে পৃথিবীর প্রায় ৯৯ শতাংশ মানুষ একই সময়ে দিনের আলো বা গোধূলির আলো উপভোগ করবে। মাত্র এক মিনিটের জন্য বিশ্বের অধিকাংশ জনবসতিপূর্ণ অঞ্চল সূর্যের আলোয় থাকবে, আর খুব অল্পসংখ্যক মানুষ তখন সম্পূর্ণ রাতের অন্ধকারে অবস্থান করবে।
ওই সময় উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা, ইউরোপ, আফ্রিকা এবং এশিয়ার অধিকাংশ অঞ্চল দিনের আলোয় থাকবে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু অংশ, আন্টার্কটিকা এবং আশপাশের সমুদ্রাঞ্চলে থাকবে রাতের অন্ধকার।
এটি কেবল একটি দিনের বিশেষ ঘটনা নয়। প্রতিবছর আনুমানিক ১৮ মে থেকে ১৭ জুলাই পর্যন্ত প্রায় দুই মাস প্রতিদিনই অল্প সময়ের জন্য এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, যখন পৃথিবীর প্রায় সব মানুষই দিনের আলো অথবা গোধূলির আলোয় অবস্থান করে।
কয়েক বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার হয়েছিল, ৮ জুলাইই একমাত্র দিন যখন এমন ঘটনা ঘটে। পরে সময় ও জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই ধরনের পরিস্থিতি টানা প্রায় দুই মাস প্রতিদিনই ঘটে, যদিও ৮ জুলাইয়ের সময়ে এর ব্যাপ্তি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।
গবেষণা অনুযায়ী, ওই নির্দিষ্ট মুহূর্তে প্রায় ৬৯০ কোটি মানুষ, অর্থাৎ বিশ্বের ৮৩ শতাংশ মানুষ পূর্ণ দিনের আলোয় থাকবে। আরও প্রায় ৫৮ কোটি মানুষ নাগরিক গোধূলিতে থাকবে, যখন অতিরিক্ত আলোর প্রয়োজন ছাড়াই বাইরে চলাফেরা করা সম্ভব।
এ ছাড়া প্রায় ৫০ কোটি মানুষ নৌ গোধূলি পর্যায়ে থাকবে, যখন দিগন্ত দেখা গেলেও আকাশ তুলনামূলক অন্ধকার হয়ে আসে। আরও প্রায় ২৫ কোটি মানুষ জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক গোধূলিতে থাকবে, যেখানে সম্পূর্ণ রাত নামার আগে আকাশে হালকা আলোর আভা থাকে।
মাত্র প্রায় ৮ কোটি ৩০ লাখ মানুষ সম্পূর্ণ রাতের অন্ধকারে থাকবে, যা পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার মাত্র ১ শতাংশ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জুন মাসের দীর্ঘতম দিনের পর সূর্য ধীরে ধীরে দক্ষিণমুখী হতে শুরু করে। এর ফলে উত্তরাঞ্চলের কম জনবসতিপূর্ণ এলাকায় দিনের দৈর্ঘ্য কিছুটা কমে গেলেও ঘনবসতিপূর্ণ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে দিনের আলো আরও কিছুটা বিস্তৃত হয়। এ কারণেই বছরের এই সময়ে পৃথিবীর প্রায় সব মানুষ একই সময়ে দিনের আলো কিংবা গোধূলির আলোয় থাকার বিরল দৃশ্য তৈরি হয়।
















