অ্যাপল টিভি প্লাসে মুক্তি পাওয়া ভিন্স গিলিগানের নতুন সায়েন্স ফিকশন সিরিজ প্লুরিবাস যেন এক অদ্ভুত স্বপ্ন ও দুঃস্বপ্নের মিশ্রণ। ব্রেকিং ব্যাড ও বেটার কল সল-এর নির্মাতা গিলিগান এবার এমন এক পৃথিবী দেখিয়েছেন, যেখানে মানুষ হঠাৎ করেই সবসময় সুখী হয়ে গেছে। কিন্তু এই সুখের আড়ালে লুকিয়ে আছে ভয়ানক রহস্য—জর্জ অরওয়েলের ১৯৮৪ ও ইনভেশন অব দ্য বডি স্ন্যাচার্স-এর ঘন ছায়া যেন আবার ফিরে এসেছে নতুন রূপে।
গল্পের কেন্দ্রে রয়েছেন ক্যারল স্টুরকা—এক রুক্ষ অথচ সংবেদনশীল নারী, যিনি এমন এক পৃথিবীতে বেঁচে আছেন যেখানে সবাই হাসিখুশি, শুধু তিনি ছাড়া। বেটার কল সল-এর রিয়া সিহর্ন এখানে এক উজ্জ্বল অভিনয়ে প্রাণ দিয়েছেন এই চরিত্রে। ক্যারল এক সফল প্রেমের উপন্যাসিক, কিন্তু তিনি নিজেই বলেন তাঁর পাঠকরা “বোকার দল”। চারপাশে যখন সবাই অযথা সুখী, তিনি তখন সন্দিহান—“কেউ যদি সুস্থ হয়, সে এতটা সুখী হতে পারে না।”
একদিন তাঁর টেলিভিশন স্ক্রিনে হঠাৎ এক অজানা মানুষ তাঁর নাম ধরে কথা বলা শুরু করে। সেই মুহূর্ত থেকেই পৃথিবীর ভারসাম্য বদলে যায়। এক ভয়াল সুখের ঢেউ গ্রাস করে চারপাশকে, আর ক্যারল হয়ে ওঠেন সেই অচেনা বাস্তবতার একমাত্র প্রতিরোধী।
আলবুকার্কির শান্ত উপশহরে বসবাস করা এই নারীকে ঘিরে গিলিগান গড়ে তুলেছেন এক রূপকথার মতো অথচ অস্বস্তিকর বাস্তব। তাঁর বাড়ির সামনেই একদল মানুষ প্রতিদিন একই সুরে বলে ওঠে, “হে ক্যারল।” এমনকি টেলিভিশনের পর্দায় হোয়াইট হাউস থেকে এক মানুষ বলে, “চিন্তা করো না, ক্যারল, আমরা জেনে নেব তোমার ভিন্নতার কারণ, যাতে তুমিও আমাদের মতো সুখী হতে পারো।”
গিলিগানের গল্প বলার ধরনে আছে এক অদ্ভুত মানবিকতা। এখানে সায়েন্স ফিকশন কেবল বাহানা—মূল সুর হলো মানুষ হওয়া, স্বাধীনভাবে চিন্তা করা এবং কৃত্রিম সুখের বিরুদ্ধে এক ব্যক্তির নীরব বিদ্রোহ।
ক্যারলের পাশে আছে তাঁর সঙ্গী হেলেন, যিনি ভালোবাসার মানুষ ও ম্যানেজার, আর আছে এক রহস্যময় নারী জোসিয়া, যিনি সর্বক্ষণ তাঁর যত্ন নিতে নিয়োজিত। কিন্তু যত্নের আড়ালে লুকিয়ে আছে নিঃশব্দ নিয়ন্ত্রণ, এক অনন্ত পরীক্ষার পরিসর।
সিরিজের শেষে প্রতিটি এপিসোডে ভেসে ওঠে এক লাইন—“এই শো মানুষ দ্বারা নির্মিত।” এ যেন এক তীব্র বার্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে মানুষকে ভুলে যেও না।
প্লুরিবাস কেবল এক টেলিভিশন সিরিজ নয়, এটি এক সতর্কবাণী—সুখের মুখোশের নিচে লুকিয়ে থাকা যান্ত্রিকতার বিরুদ্ধে এক কাব্যিক প্রতিবাদ। রিয়া সিহর্নের মৃদু হাসি, গিলিগানের ব্যঙ্গাত্মক মানবিকতা আর অরওয়েলীয় ছায়া মিলে প্লুরিবাস হয়ে উঠেছে ২০২৫ সালের সবচেয়ে বুদ্ধিদীপ্ত ও হৃদয়স্পর্শী টেলিভিশন অভিজ্ঞতা।
















