ঢাকা-১০ আসনে প্রার্থী হচ্ছেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ, জানালেন স্বতন্ত্র নির্বাচন করার পরিকল্পনার কথা
ঢাকা, ৯ নভেম্বর ২০২৫: অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন এবং সেই লক্ষ্যে ঢাকা-১০ সংসদীয় আসনের ভোটার হওয়ার আবেদন করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ঢাকা থেকে নির্বাচন করা তাঁর মোটামুটি নিশ্চিত। তবে উপদেষ্টা পরিষদ থেকে কবে পদত্যাগ করবেন, তা সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
আজ রোববার বিকেলে রাজধানীর গ্রিন রোডে ঢাকা-১০ আসনভুক্ত ধানমণ্ডি থানার নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ভোটার হওয়ার আবেদন করার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের এই উপদেষ্টা।
ঢাকা থেকে নির্বাচন করার ঘোষণা
আসিফ মাহমুদ বলেন, “যেহেতু ঢাকা থেকে নির্বাচন করব এটা মোটামুটি নিশ্চিত, সেই জায়গা থেকে নিজের ভোটটাও ঢাকায় নিয়ে আসা।”
- প্রার্থীতা: তিনি নিশ্চিত করে বলেন, “নিশ্চিতভাবেই বলছি যে, আমি নির্বাচন করব।”
- নির্বাচনী এলাকা: যদিও নির্বাচনের এলাকা চূড়ান্ত হয়নি, তবে তিনি ঢাকা থেকে নির্বাচন করবেন বলে জানিয়েছেন। সরকার থেকে পদত্যাগ করার পর ধানমন্ডি এলাকায় থাকার পরিকল্পনা থাকায় তিনি এই এলাকার ভোটার হওয়ার আবেদন করেছেন।
- দলীয় অবস্থান: কোনো দলে যোগ দেবেন কি না—এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এখন পর্যন্ত পরিকল্পনা স্বতন্ত্র নির্বাচন করার। তারপর দেখা যাক।”
বিএনপি ঢাকা-১০ আসন ফাঁকা রেখেছে এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে আসিফ মাহমুদ বলেন,
“আমার কারও সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা হয়নি। কোনো রাজনৈতিক দল কোন আসন ফাঁকা রাখল কি রাখল না, সেটা আমার জানার বিষয় নয়। আমি আমার সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগতভাবে, এককভাবেই নেব।”
পদত্যাগের সময়সীমা
উপদেষ্টা পরিষদ থেকে পদত্যাগ করে জনতার কাতারে কবে আসবেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন:
“কবে নাগাদ পদত্যাগ করব, এটা আপনারা জানেন সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। আলোচনা করে দ্রুতই আপনাদের সে বিষয়ে জানাব।”
সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন নিয়ে মন্তব্য
সরকারের কার্যক্রম নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সরকারের তিনটি প্রধান কাজের অগ্রগতি তুলে ধরেন:
- সরকারের লক্ষ্য: তিনি বলেন, “এই সরকারের তিনটা কাজ ছিল সংস্কার, বিচার ও গণতান্ত্রিক রূপান্তর। আপনারা দেখছেন, তিনটা কাজই সমানভাবে এগিয়ে চলছে।”
- বিচারের অগ্রগতি: “বিচারের বিষয়ে এ মাসের মধ্যেই মধ্যে একটা গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হবে বলে আমরা জানি।”
- সংস্কার ও নির্বাচন: সংস্কারের কার্যক্রম প্রায় শেষের দিকে। নির্বাচনের বিষয়ে সরকার খুব স্পষ্টভাবে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজন করার কথা বলেছে এবং বারবার বলছে। সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন আয়োজনের জন্য সরকার সব অংশীজনদের প্রস্তুত করছে।
জুলাই সনদ ও গণভোট
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোট কবে হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ভিন্নমতের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে মতামত পাওয়ার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
















