একসময় ইউরোপে শরণার্থী গ্রহণে উদার নীতির জন্য পরিচিত সুইডেন এখন অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে। নতুন আইন ও নীতিমালার ফলে স্থায়ী বসবাস, পরিবার পুনর্মিলন এবং অনথিভুক্ত অভিবাসীদের জীবন আরও কঠিন হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা করছেন আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মীরা।
নতুন নীতির কারণে ব্রাজিলের নাগরিক রাকুয়েল ভিভেইরা, যিনি সুইডিশ ভাষা শিখেছেন, কর পরিশোধ করেছেন এবং বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন, হঠাৎই দেশ ছাড়ার নির্দেশ পান। অভিবাসন কর্তৃপক্ষ জানায়, পূর্ববর্তী ও বর্তমান পারিবারিক ভিসার আইনি জটিলতার কারণে তিনি স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাচ্ছেন না। বর্তমানে তিনি ব্রাজিল থেকে পুনরায় আবেদন করেছেন।
জুলাই মাস থেকে কার্যকর হতে যাওয়া নতুন আইনের আওতায় আশ্রয়প্রার্থীদের শুধুমাত্র অস্থায়ী বসবাসের অনুমতি দেওয়া হবে এবং স্থায়ী আবাসনের পথ আরও সীমিত হবে। একই সঙ্গে ছয়টি সরকারি সংস্থাকে অনথিভুক্ত অভিবাসীদের তথ্য পুলিশকে জানাতে বাধ্য করার বিধানও কার্যকর হচ্ছে, যা নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন ব্যবস্থায় বসবাসের অনুমতি নবায়নের জন্য চাকরি, আয় এবং অন্যান্য শর্ত ধারাবাহিকভাবে পূরণ করতে হবে। চাকরি হারানো, দীর্ঘ ছুটি বা আর্থিক সমস্যার মতো কারণেও আবাসিক মর্যাদা হারানোর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। পরিবার পুনর্মিলনের ক্ষেত্রেও আয়ের শর্ত উল্লেখযোগ্যভাবে কঠোর করা হয়েছে।
২০২২ সালের নির্বাচনের পর ডানপন্থী সুইডেন ডেমোক্র্যাটসের সমর্থনে গঠিত সরকার অভিবাসন নীতি আরও কঠোর করেছে। যদিও বিরোধী সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটরাও কঠোর অভিবাসন নীতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, তারা বিতর্কিত কয়েকটি আইন সংশোধনের ইঙ্গিত দিয়েছে। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন মাইগ্রেশন চুক্তির অনেক বিধান কার্যকর হওয়ায় নীতিগত পরিবর্তন সহজ হবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।















