কেনিয়ায় শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ মনে করছে, মাতৃভাষায় পাঠদান করলে শেখা ও বিষয়বস্তু বোঝা অনেক সহজ হয়। তবে উচ্চশিক্ষা, চাকরি এবং আন্তর্জাতিক সুযোগের ক্ষেত্রে ইংরেজির গুরুত্ব অপরিবর্তিত থাকায় দেশটির শিক্ষা ব্যবস্থায় ভাষা নিয়ে এক ধরনের দ্বৈত বাস্তবতা তৈরি হয়েছে।
কেরিচোর বাসিন্দা ৩৩ বছর বয়সী লোনা চেপকেমোই জানান, দীর্ঘদিন পর কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়ে প্রথমবার তিনি নিজের মাতৃভাষা কালেনজিনে পাঠ শুনে বিষয়গুলো সহজে বুঝতে পেরেছিলেন। শিক্ষকরা কালেনজিনের পাশাপাশি সোয়াহিলি ও ইংরেজিও ব্যবহার করতেন, যা তার শেখার আগ্রহ ও আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে।
ইউনেস্কোর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রায় ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থী এমন ভাষায় পড়াশোনা করে, যা তারা ভালোভাবে বোঝে না। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের অনেক দেশে এই হার ৯০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, মাতৃভাষাভিত্তিক বহুভাষিক শিক্ষা সাক্ষরতা ও শিক্ষার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
কেনিয়ার নীতিমালা অনুযায়ী প্রাথমিকের প্রথম কয়েক বছর মাতৃভাষায় শিক্ষা দেওয়ার সুযোগ থাকলেও পরবর্তী পর্যায়ে ইংরেজি প্রধান শিক্ষার ভাষা হয়ে ওঠে। তবে বাস্তবে অনেক শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে ইংরেজির পাশাপাশি স্থানীয় ভাষা ও সোয়াহিলি ব্যবহার করেন।
শিক্ষাবিদদের মতে, বহুভাষিক শ্রেণিকক্ষে কেবল একটি স্থানীয় ভাষায় পাঠদান বাস্তবসম্মত নয়। একই সঙ্গে কর্মসংস্থান, উচ্চশিক্ষা ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের জন্য ইংরেজিতে দক্ষতাও অপরিহার্য। তাই মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা এবং ধীরে ধীরে ইংরেজিতে দক্ষতা অর্জনের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করাই সবচেয়ে কার্যকর সমাধান হতে পারে।
















