বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াং এবং ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে অবকাঠামো, বাণিজ্য, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা ও আঞ্চলিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্পর্ক জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়। সফরকালে দুই দেশ ১৭টি সমঝোতা স্মারক (MoU) ও সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করে।
যৌথ ঘোষণায় দীর্ঘদিনের স্থগিত তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প (TRCMRP) বাস্তবায়নে চীনের নতুন সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। দুই দেশের বিশেষজ্ঞরা দ্রুত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন করবেন বলে জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু অভিযোজন ও আঞ্চলিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
চীন বাংলাদেশকে ব্রিকসে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (SCO) অংশীদার হওয়ার প্রচেষ্টায় সমর্থন জানিয়েছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থান ও বহুমুখী পররাষ্ট্রনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।
সফরে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পাশাপাশি চট্টগ্রামে চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বৈদ্যুতিক যান (EV), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), তথ্যপ্রযুক্তি এবং আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশি পণ্যের জন্য শতভাগ শুল্কমুক্ত সুবিধা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছে বেইজিং।
এছাড়া দুই দেশ পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা পর্যায়ে স্থায়ী কৌশলগত সংলাপ এবং সম্ভাব্য “২+২” সংলাপ চালুর বিষয়ে একমত হয়েছে। সামরিক প্রশিক্ষণ, প্রতিরক্ষা বিনিময় ও জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে মিয়ানমারের সঙ্গে সংলাপ অব্যাহত রাখতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেছে চীন।
















