চীন ও পাকিস্তান তাদের দীর্ঘদিনের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে কেন্দ্র করে নতুন ধরনের আঞ্চলিক কূটনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। বিশ্লেষকদের মতে, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভিত্তিতে তৃতীয় দেশকে সম্পৃক্ত করে নমনীয় সহযোগিতার যে ধারা গড়ে উঠছে, তা দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
এই উদ্যোগের অন্যতম উদাহরণ আফগানিস্তানকে নিয়ে ত্রিপক্ষীয় সংলাপ। কয়েক বছর ধরে চলা এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কাবুল ও ইসলামাবাদের মধ্যে যোগাযোগের পথ খোলা রাখা, সীমান্ত উত্তেজনা কমানো এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার সুযোগ তৈরির চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর আফগানিস্তান পর্যন্ত সম্প্রসারণ নিয়েও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ, চীন ও পাকিস্তানকে নিয়ে নতুন একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের মাধ্যমে পারস্পরিক আস্থা, উন্মুক্ত সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই কাঠামো তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা ইস্যুর পরিবর্তে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সহযোগিতাকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্য সংকটেও দুই দেশ সমন্বিত ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছে। পাকিস্তান প্রথমে বিভিন্ন আঞ্চলিক দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং পরে চীনের সঙ্গে যৌথভাবে একটি পাঁচ দফা উদ্যোগ উপস্থাপন করে। এতে পাকিস্তান ইসলামী বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ কাজে লাগিয়েছে, আর চীন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ওজন যোগ করেছে।
অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও তৃতীয় পক্ষকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডরে অন্যান্য দেশের অংশগ্রহণের বিষয়ে দুই দেশ আগ্রহ প্রকাশ করলেও অর্থায়নের সংকট, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীরগতির কারণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি এখনো সীমিত।
চীন ও পাকিস্তানের সাম্প্রতিক কৌশলগত সংলাপে আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, করিডরের দ্বিতীয় ধাপ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় সমন্বিত অবস্থানের বিষয়গুলো একসঙ্গে গুরুত্ব পেয়েছে। এতে বোঝা যায়, দুই দেশ এখন শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নয়, বরং বৃহত্তর আঞ্চলিক সহযোগিতার দিকেও নজর দিচ্ছে।
তবে এই কৌশলের সফলতা নির্ভর করবে নিরাপত্তা পরিস্থিতি, পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপর। পাশাপাশি তৃতীয় দেশগুলোর আস্থা অর্জন এবং অংশগ্রহণকে স্বতন্ত্র কূটনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখাও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই নমনীয় সহযোগিতা কাঠামো দ্রুত আঞ্চলিক রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আনবে না। তবে বড় জোটের বাইরে থেকে মধ্যম ও আঞ্চলিক শক্তিগুলোর জন্য এটি একটি কার্যকর কূটনৈতিক মডেল হয়ে উঠতে পারে।
















