ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনির্দিষ্টকালের অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছে আলোচিত ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মক উদ্যোগ হিসেবে শুরু হওয়া আন্দোলনটি এখন দেশজুড়ে তরুণদের ক্ষোভের প্রতীকে পরিণত হয়েছে।
দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে, যিনি সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন, অনলাইন আন্দোলনকে রাস্তায় নিয়ে আসতে ভারতে ফিরে এসেছেন। পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস, ফলাফল নিয়ে অনিয়ম এবং কর্মসংস্থানের সংকটকে কেন্দ্র করে তরুণদের মধ্যে জমে থাকা হতাশাই এই আন্দোলনের প্রধান চালিকাশক্তি।
গত মে মাসে ভারতের প্রধান বিচারপতির এক মন্তব্যে তরুণদের ‘ককরোচ’-এর সঙ্গে তুলনা করা হলে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এরপর অভিজিৎ দিপকের একটি পোস্ট ভাইরাল হয়ে যায় এবং দ্রুত জনপ্রিয়তা পায় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। বর্তমানে সংগঠনটির ইনস্টাগ্রাম অনুসারীর সংখ্যা ২ কোটি ২০ লাখ ছাড়িয়েছে, যা ভারতের ক্ষমতাসীন দলের অনুসারীর সংখ্যারও বেশি।
নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে চলমান বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, বারবার প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষার অনিয়ম তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় ফেলেছে। সম্প্রতি মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় পরীক্ষা বাতিল হওয়ায় লাখো শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিক্ষোভকারীরা দাবি করছেন, শিক্ষাব্যবস্থার এই সংকটের দায় নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে। দিল্লি পুলিশ আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দিতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিলেও তারা অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
অভিজিৎ দিপকে বলেছেন, “সরকার যদি মনে করে আমাদের ক্লান্ত করে আন্দোলন ভেঙে দেবে, তাহলে তারা ভুল করছে। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আমরা এখানেই থাকব।”
















