দীর্ঘদিনের অবরোধ ও বিক্ষোভে খাদ্য, জ্বালানি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে সরকার। নতুন ঘোষণার ফলে সড়ক অবরোধ অপসারণ এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সেনাবাহিনীকে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
গত প্রায় পঞ্চাশ দিন ধরে চলা বিক্ষোভে প্রধান সড়কগুলো অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় প্রশাসনিক রাজধানী কার্যত বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। সরকারের কৃচ্ছ্রসাধন নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীরা রাষ্ট্রপ্রধানের পদত্যাগ দাবি করে আসছেন।
জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, এটি জনগণের স্বাধীনতা সীমিত করার জন্য নয়, বরং স্বাভাবিক চলাচল ও সরবরাহব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের জন্য জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, চলমান অবরোধ আর সাধারণ সামাজিক প্রতিবাদ নয়, বরং রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা নষ্ট করার সংগঠিত প্রচেষ্টা।
সরকারি ঘোষণায় বলা হয়েছে, জরুরি অবস্থা নব্বই দিনের জন্য কার্যকর থাকবে। তবে সহিংসতা ও জননিরাপত্তার প্রতি হুমকি বন্ধ হলে তা আগেই প্রত্যাহার করা হতে পারে। নতুন ব্যবস্থার আওতায় সড়ক, মহাসড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ অবরোধ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা, সড়ক পুনরায় চালু করা এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
গত কয়েক সপ্তাহে জ্বালানি ভর্তুকি প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক পদক্ষেপের প্রতিবাদে দেশজুড়ে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন এবং কয়েকশ ব্যক্তি আটক হয়েছেন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, চলমান সংকটের মধ্যে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ায় অন্তত সতেরো জনের মৃত্যু হয়েছে। অবরোধের কারণে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে, বাজারে পণ্যের সংকট দেখা দিয়েছে এবং বিভিন্ন হাসপাতালে জরুরি সরঞ্জামের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
এরই মধ্যে একটি শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে সরকার সমঝোতায় পৌঁছালেও আন্দোলনের একটি অংশ তা প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তারা রাষ্ট্রপ্রধানের পদত্যাগ ছাড়া অন্য কোনো সমাধান মানতে রাজি নয় বলে জানিয়েছে।
ক্ষমতায় আসার সময় সরকার জ্বালানি সংকট দূর করা, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা এবং সামাজিক নিরাপত্তা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সংস্কার ও ভর্তুকি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দিয়েছে বলে সমালোচকদের অভিযোগ।
অন্যদিকে সরকার বলছে, দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতি স্থিতিশীল করতে এসব পদক্ষেপ প্রয়োজন। তবে গ্রামীণ ও আদিবাসী জনগোষ্ঠী অভিযোগ করেছে যে সরকার তাদের চাহিদা ও জীবনযাত্রার সংকটকে যথাযথ গুরুত্ব দিচ্ছে না।
জরুরি অবস্থা ঘোষণার পর পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা এখন দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
















