ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তী সমঝোতায় লেবাননে সব ধরনের সামরিক অভিযান বন্ধের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকলেও বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন চিত্র দেখাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, লেবাননে চলমান সংঘাত এই সমঝোতার সফলতা বা ব্যর্থতার অন্যতম প্রধান নির্ধারক হয়ে উঠতে পারে।
সমঝোতা অনুযায়ী উভয় পক্ষ এবং তাদের মিত্রদের মধ্যে সব ফ্রন্টে যুদ্ধ কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে চুক্তি স্বাক্ষরের পরও লেবাননে হামলা অব্যাহত থাকায় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
ইরানের কর্মকর্তারা মনে করছেন, লেবাননের ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষা সমঝোতার একটি মৌলিক শর্ত। তাদের মতে, লেবাননে সংঘাত বন্ধ না হলে বৃহত্তর সমঝোতা প্রক্রিয়াও ঝুঁকির মুখে পড়বে।
বিশ্লেষকদের মতে, লেবানন শুধু একটি আঞ্চলিক ইস্যু নয়; এটি ইরানের কৌশলগত প্রভাব ও আঞ্চলিক অবস্থানের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। দীর্ঘদিন ধরে লেবাননের প্রতিরোধশক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছে তেহরান, ফলে দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি ইরানের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
অন্যদিকে লেবাননের সরকার এবং প্রতিরোধশক্তি উভয়ই বিদেশি সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছে। তবে এই লক্ষ্য অর্জনের পদ্ধতি নিয়ে তাদের অবস্থানে পার্থক্য রয়েছে। সরকার সরাসরি আলোচনার পক্ষে থাকলেও প্রতিরোধশক্তি বৃহত্তর আঞ্চলিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান চায়।
পর্যবেক্ষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সমঝোতা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখা। লেবাননে সংঘর্ষ অব্যাহত থাকলে তা শুধু ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককেই নয়, পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকেও প্রভাবিত করতে পারে।
এদিকে লেবাননে সংঘাত বন্ধে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, বহির্বিশ্বের সমর্থন ছাড়া লেবাননের পক্ষে বর্তমান সংকট থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন হবে।
তারা আরও বলছেন, সমঝোতার ভবিষ্যৎ এখন অনেকটাই নির্ভর করছে লেবাননের পরিস্থিতির ওপর। যদি সেখানে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা করা যায়, তাহলে বৃহত্তর সমঝোতার পথ সুগম হবে। অন্যথায় নতুন করে আঞ্চলিক অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
















