যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (MoU) বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নিতে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা সুইজারল্যান্ডে বৈঠক করছেন। তবে একই সময়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির চুক্তি-সংক্রান্ত অবস্থান দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
রোববার সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আলোচনায় ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে নেতৃত্ব দেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। কাতার ও পাকিস্তান এই আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে।
চুক্তি স্বাক্ষরের পর খামেনির একমাত্র প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানান, নীতিগতভাবে তিনি ভিন্ন মত পোষণ করতেন। তবে প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি সমঝোতাটি অনুমোদন করেন।
এদিকে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। কট্টরপন্থী সংসদ সদস্য মাহমুদ নাবাভিয়ান দাবি করেন, খামেনি পূর্বে যুদ্ধবিরতি ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। তিনি হরমুজ প্রণালিতে ইরানের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ, যুদ্ধক্ষতিপূরণ, জব্দকৃত সম্পদ ফেরত এবং পারমাণবিক কর্মসূচিতে কোনো ছাড় না দেওয়ার পক্ষে ছিলেন বলে দাবি করেন।
তবে ইরানের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা অঙ্গনের বেশিরভাগ শীর্ষ সিদ্ধান্তগ্রহণকারী এই সমঝোতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। বিভিন্ন সূত্রের মতে, সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রায় সব সদস্য চুক্তির পক্ষে ভোট দিয়েছেন। কেবল কট্টরপন্থী রাজনীতিক সাঈদ জালিলি এর বিরোধিতা করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে ইরানের প্রধান উদ্বেগ লেবাননের পরিস্থিতি। সমঝোতার প্রথম শর্ত অনুযায়ী লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। এ কারণে তেহরান আলোচনায় প্রথমেই যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের বিষয়টি নিশ্চিত করতে চায়।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথে অগ্রসর হওয়ার আগে লেবাননে যুদ্ধবিরতি এবং সমঝোতার অন্যান্য শর্ত বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা পাওয়া জরুরি।
অন্যদিকে দেশটির কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলো রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে সমঝোতাবিরোধী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনাকে সন্দেহের চোখে দেখছে এবং সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সমালোচনা করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সুইজারল্যান্ডের আলোচনা সফল হলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমতে পারে। তবে লেবাননের চলমান সংঘাত এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজন সমঝোতার ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।
















