নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিদেশি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ বাড়াতে টিউনিসিয়ার সাম্প্রতিক উদ্যোগ দেশটিতে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সমালোচকদের মতে, নতুন সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো দেশের জ্বালানি সংকট সমাধানের পরিবর্তে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের মুনাফা বাড়াবে এবং জাতীয় সম্পদের ওপর নির্ভরশীলতা আরও গভীর করবে।
চলতি বছরের শুরুতে টিউনিসিয়ার পার্লামেন্ট পাঁচটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য ছাড়পত্র অনুমোদন করে। প্রায় ৫৯৮ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতাসম্পন্ন এসব প্রকল্পে মোট বিনিয়োগ ধরা হয়েছে প্রায় ৫৬ কোটি ডলার। প্রকল্পগুলো বিদেশি কোম্পানির হাতে পরিচালিত হবে।
বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতের শ্রমিক সংগঠনগুলোর অভিযোগ, এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ সংস্থা কেবল বিতরণ নেটওয়ার্ক পরিচালনার ভূমিকায় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়বে, আর উৎপাদন ও মুনাফার নিয়ন্ত্রণ চলে যাবে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে। অবকাঠামোগত ব্যয় জনগণের ওপর চাপলেও আর্থিক সুবিধা দেশ ছাড়বে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রকল্পগুলোতে কর ছাড়, বিশেষ সুবিধা এবং দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা ধারা রাখা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে রাষ্ট্রের আর্থিক নীতিনির্ধারণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি প্রযুক্তি হস্তান্তর, স্থানীয় শিল্পের উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রেও পর্যাপ্ত নিশ্চয়তা নেই।
সমালোচকদের আরেকটি বড় উদ্বেগ কার্বন নির্গমন হ্রাসের মাধ্যমে অর্জিত পরিবেশগত সুবিধা ও কার্বন ক্রেডিট বিদেশি কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা। তাদের মতে, জাতীয় সম্পদ থেকে সৃষ্ট এই সুবিধা জনগণের কল্যাণে ব্যবহৃত হওয়ার পরিবর্তে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মুনাফার উৎসে পরিণত হবে।
সরকারের যুক্তি, জ্বালানি ঘাটতি কমানো, আমদানিনির্ভরতা হ্রাস এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর জন্য এসব প্রকল্প প্রয়োজন। তবে সমালোচকদের দাবি, দেশের মূল জ্বালানি সংকটের বড় অংশ পরিবহন খাতে জ্বালানি ব্যবহারের সঙ্গে সম্পর্কিত, যা সমাধানে গণপরিবহন উন্নয়ন, স্থানীয় পরিশোধন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা প্রয়োজন।
বিশ্লেষকদের মতে, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তর অবশ্যই জরুরি, তবে তা রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে পরিচালিত হওয়া উচিত। অন্যথায় জ্বালানি খাতে বিদেশি নির্ভরতা কমার পরিবর্তে আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
















