জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে হিমালয়ের হিমবাহ দ্রুত গলতে ও সরে যেতে থাকায় ভারতের পাহাড়ি অঞ্চলের বহু গ্রাম তীব্র পানিসংকটে পড়েছে। তবে এই সংকট মোকাবিলায় উদ্ভাবনী প্রযুক্তিনির্ভর কৃত্রিম বরফের ভাণ্ডার নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে স্থানীয় কৃষকদের।
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় চার হাজার মিটার উচ্চতায় অবস্থিত একটি পাহাড়ি গ্রাম দীর্ঘদিন ধরে অতি স্বল্প বৃষ্টিপাত ও কঠিন আবহাওয়ার কারণে কৃষিকাজে নানা চ্যালেঞ্জের মুখে ছিল। অতীতে ছোট ছোট হিমবাহ থেকে গলে আসা পানি কৃষিকাজে ব্যবহার করা হলেও উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে এসব হিমবাহ প্রায় বিলীন হয়ে গেছে।
ফলে বসন্তকালে ফসল রোপণের জন্য প্রয়োজনীয় পানির ঘাটতি দেখা দেয়। এই সমস্যা সমাধানে কয়েক বছর আগে স্থানীয়রা পাহাড়ের ওপর থেকে পাইপের মাধ্যমে পানি এনে শীতকালে বাতাসে ছিটিয়ে কৃত্রিম বরফের স্তূপ তৈরি শুরু করেন। বসন্তে এসব বরফ গলে কৃষিজমিতে পানি সরবরাহ করত।
তবে পুরোনো পদ্ধতিতে পাইপ জমে ফেটে যাওয়া, অতিরিক্ত শ্রম এবং রক্ষণাবেক্ষণের জটিলতা ছিল বড় সমস্যা। পরে আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় স্বয়ংক্রিয় বরফ ভাণ্ডার ব্যবস্থা চালু করা হয়।
নতুন ব্যবস্থায় আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ যন্ত্র, সৌরশক্তিচালিত নিয়ন্ত্রণ ইউনিট এবং স্বয়ংক্রিয় ভালভ ব্যবহার করে নির্দিষ্ট সময়ে পানি ছিটিয়ে বরফ তৈরি করা হয়। তাপমাত্রা বিপজ্জনক পর্যায়ে নেমে গেলে ব্যবস্থা নিজেই পাইপের পানি বের করে দেয়, ফলে পাইপ ফেটে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদ্ধতিতে প্রায় সম্পূর্ণ পানি বরফে রূপান্তর করা সম্ভব হচ্ছে এবং কৃষিকাজের জন্য নির্ভরযোগ্য পানির উৎস তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর পুনরুদ্ধার ও শুকিয়ে যাওয়া ঝরনাগুলোও পুনরুজ্জীবিত হচ্ছে বলে স্থানীয়দের দাবি।
সাম্প্রতিক শীত মৌসুমে অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। কৃষকরা বলছেন, নতুন প্রযুক্তির ফলে সময়মতো পানি পাওয়ায় ফসল উৎপাদনে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে এবং অনেক তরুণের শহরমুখী হওয়ার প্রবণতাও কমতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্রমবর্ধমান পানিসংকট মোকাবিলায় এই ধরনের উদ্ভাবনী উদ্যোগ ভবিষ্যতে পাহাড়ি অঞ্চলের খাদ্য নিরাপত্তা ও জীবিকা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
















