বিশ্বখ্যাত ব্রিটিশ চিত্রশিল্পীর মৃত্যুর পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে তার অন্যতম বিখ্যাত চিত্রকর্ম ‘একটি বড় ছিটা’। শিল্পবিশারদরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে স্বাধীনতা, ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য ও মুক্ত অভিব্যক্তির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত এই চিত্রকর্ম এখন অনুপস্থিতি, স্মৃতি এবং মানুষের ক্ষণস্থায়ী অস্তিত্বের নতুন অর্থও বহন করছে।
চিত্রকর্মটি তৈরি হয়েছিল শিল্পীর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস শুরু করার কয়েক বছর পর। এতে একটি সুইমিং পুলের পানিতে হঠাৎ সৃষ্ট বড় ছিটা দেখা গেলেও ছিটাটি তৈরি করা ব্যক্তিকে কোথাও দেখা যায় না। এই অনুপস্থিত উপস্থিতিই চিত্রকর্মটির মূল আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।
শিল্পসমালোচকদের মতে, ছবিটি প্রথম দর্শনে গ্রীষ্মের উজ্জ্বল আলো ও পানির ক্ষণিক বিস্ফোরণের একটি দৃশ্য মনে হলেও এর পেছনে রয়েছে বহু ঐতিহাসিক ও নান্দনিক প্রভাব। প্রাচীন মিসরীয় দেয়ালচিত্র, নবজাগরণ যুগের চিত্রকলার সরলতা এবং সমসাময়িক জনপ্রিয় শিল্পধারার সমন্বয়ে এটি নির্মিত হয়েছিল।
শিল্পী তরুণ বয়সে মিসর সফরের সময় প্রাচীন সমাধিচিত্রের সমতল বিন্যাস ও দৃশ্য উপস্থাপনা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। পরবর্তীতে সেই অভিজ্ঞতা তার শিল্পচর্চায় প্রভাব ফেলে। একই সঙ্গে নবজাগরণ যুগের ইতালীয় চিত্রকলার শান্ত রঙ ও বিন্যাসও তার কাজে প্রতিফলিত হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, ছবিটি বাস্তব কোনো মুহূর্তের সরাসরি প্রতিফলন নয়। বরং বিভিন্ন আলোকচিত্র, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং কল্পনার সমন্বয়ে এটি নির্মিত হয়েছে। একটি নির্মাণবিষয়ক গ্রন্থে প্রকাশিত সুইমিং পুলের একটি আলোকচিত্র থেকে শিল্পী অনুপ্রেরণা নিয়েছিলেন বলে জানা যায়।
চিত্রকর্মটির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো, এতে উপস্থিতির চেয়ে অনুপস্থিতির অনুভূতি বেশি শক্তিশালী। পানির ছিটা রয়েছে, কিন্তু যিনি পানিতে ঝাঁপ দিয়েছেন তিনি দৃশ্যমান নন। ফলে দর্শকের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে, কে ছিল সেখানে এবং সে কোথায় চলে গেল।
শিল্পীর দীর্ঘ কর্মজীবনে প্রযুক্তি ও চিত্রকলার সম্পর্ক নিয়ে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা দেখা গেলেও এই চিত্রকর্মটি তার অন্যতম স্মরণীয় সৃষ্টি হিসেবে বিবেচিত হয়। শিল্পবিশারদদের মতে, সময়কে থামিয়ে রাখা সম্ভব না হলেও শিল্পকর্ম মানুষের অস্তিত্বের ক্ষণিক ছাপকে দীর্ঘস্থায়ী করে তুলতে পারে। শিল্পীর মৃত্যুর পর সেই বার্তাই যেন আরও গভীরভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে এই চিত্রকর্মে।
















