কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি উন্নয়নে ব্যবহৃত একটি বিশাল তথ্যপ্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রকে ঘিরে আইনি বিরোধে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। সরকারের দাবি, কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রকল্প বন্ধের চেষ্টা জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে।
সম্প্রতি আদালতে জমা দেওয়া এক আবেদনে বিচার বিভাগ একটি মামলার খারিজ চেয়েছে। মামলাটিতে অভিযোগ করা হয়েছিল যে সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়াই বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য একাধিক প্রাকৃতিক গ্যাসচালিত টারবাইন পরিচালনা করছে।
মামলাটি দায়ের করে আফ্রিকান-আমেরিকান নাগরিক অধিকার সংগঠন। তাদের অভিযোগ, যথাযথ পরিবেশগত অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত এসব টারবাইন স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য ক্ষতিকর দূষণ তৈরি করছে, যা হাঁপানি, শ্বাসতন্ত্রের রোগ, হৃদরোগ এবং কিছু ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
সংগঠনটির দাবি, প্রকল্পটির আশপাশে বসবাসকারী বিপুলসংখ্যক মানুষ বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন এবং তাদের একটি বড় অংশ কৃষ্ণাঙ্গ সম্প্রদায়ের সদস্য।
তবে বিচার বিভাগ আদালতে বলেছে, এই প্রকল্প বন্ধ করে দেওয়ার প্রচেষ্টা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করবে। সরকারের মতে, এই প্রযুক্তি সামরিক ও কৌশলগত বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
আদালতে দাখিল করা নথিতে আরও বলা হয়, পরিবেশ আইনের আওতায় আর্থিক জরিমানা বা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতা মূলত নির্বাহী বিভাগের হাতে ন্যস্ত। তাই কোন ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বা হবে না, সে সিদ্ধান্তও সরকারের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে।
বিচার বিভাগের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, বেসরকারি সংগঠনগুলো যদি পরিবেশ আইন ব্যবহার করে জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট প্রকল্প বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করে, তাহলে সরকার নীরব থাকবে না।
অন্যদিকে মামলাকারী পক্ষের প্রতিনিধিত্বকারী পরিবেশবাদী সংগঠন সরকারের এই অবস্থানকে ক্ষমতার অপব্যবহার হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। তাদের মতে, পরিবেশ দূষণের অভিযোগ থেকে একটি প্রভাবশালী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকে রক্ষা করার জন্য প্রশাসন আদালত, কংগ্রেস এবং স্থানীয় জনগণের ক্ষমতা খর্ব করার চেষ্টা করছে।
পরিবেশ আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশও সরকারের অবস্থানের সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, যদি এই যুক্তি গ্রহণ করা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে পরিবেশ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে নাগরিকদের দায়ের করা বহু মামলাই ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা খাতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। দেশটির সামরিক বাহিনীতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠানটির প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে জানা গেছে।
এক সামরিক কর্মকর্তার আদালতে দেওয়া সাক্ষ্যে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিপুলসংখ্যক সামরিক লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত ও আঘাত হানার কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বা প্রযুক্তিগত সক্ষমতায় কোনো ধরনের সীমাবদ্ধতা তৈরি হলে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন কার্যক্রম গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এই মামলাকে কেন্দ্র করে এখন পরিবেশ সুরক্ষা, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং জাতীয় নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার প্রশ্নটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের।
















