যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশটির শীর্ষ তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলোর রেকর্ড মুনাফা নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
প্রেসিডেন্ট বলেন, দেশের বৃহৎ তেল কোম্পানিগুলো অতিরিক্ত মুনাফা করছে, অথচ সাধারণ মানুষ জ্বালানির উচ্চমূল্যের চাপ বহন করছে। তিনি দাবি করেন, তার প্রশাসনের নীতিগত সহায়তা না থাকলে দেশটির জ্বালানি শিল্প বর্তমান অবস্থানে পৌঁছাতে পারত না।
সাম্প্রতিক আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, অন্যতম বৃহৎ তেল কোম্পানি ছয় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ত্রৈমাসিক মুনাফা অর্জন করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও বৈশ্বিক সরবরাহ সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানগুলো উল্লেখযোগ্য আর্থিক সুবিধা পেয়েছে।
আরেকটি বড় জ্বালানি প্রতিষ্ঠানও কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মুনাফা করেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের পরিশোধন খাতের একটি শীর্ষ প্রতিষ্ঠানও ইতিহাসের সর্বোচ্চ দ্বিতীয় প্রান্তিক আয়ের ঘোষণা দিয়েছে।
অন্যদিকে, এই মুনাফার সুফল সাধারণ ভোক্তাদের কাছে পৌঁছেনি। দেশজুড়ে এক গ্যালন পেট্রোলের গড় দাম চার ডলারের ওপরে অবস্থান করছে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো মাসিক আয়ের বড় অংশ জ্বালানি কিনতেই ব্যয় করতে বাধ্য হচ্ছে।
এদিকে দেশটির কৌশলগত তেল মজুতও কয়েক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ আরও চাপের মুখে পড়তে পারে, যার প্রভাব মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে ভোক্তাদের ওপর আরও বেশি পড়বে।
বিরোধী রাজনৈতিক নেতারাও তেল কোম্পানিগুলোর অতিরিক্ত মুনাফার সমালোচনা করেছেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষার বাধ্যবাধকতার কারণে প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য স্বেচ্ছায় জ্বালানির দাম কমানো সহজ নয়। তাদের মতে, ভোক্তাদের স্বস্তি দিতে সরকার চাইলে সাময়িকভাবে জ্বালানি কর স্থগিত করার মতো পদক্ষেপ বিবেচনা করতে পারে।
















