ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্টের একটি বেঞ্চ সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে এদুয়ার্দো বলসোনারোকে দোষী সাব্যস্ত করেছে। আদালতের মতে, তিনি তার বাবার বিচারপ্রক্রিয়ায় বিদেশি হস্তক্ষেপ আনতে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চাওয়ার মাধ্যমে ব্রাজিলের বিচারব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছিলেন।
মঙ্গলবার বিচারপতিদের চার সদস্যের বেঞ্চের মধ্যে তিনজন দোষী সাব্যস্ত করার পক্ষে মত দেন। একজন বিচারপতির ভোট তখনো বাকি থাকলেও সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে রায় নিশ্চিত হয়।
আদালত এদুয়ার্দো বলসোনারোর কর্মকাণ্ডকে ব্রাজিলের বিচারব্যবস্থার বিরুদ্ধে চাপ প্রয়োগের প্রচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করে তাকে চার বছর দুই মাসের কারাদণ্ড দেয়।
রায়ে এক বিচারপতি বলেন, এটি শুধু রাজনৈতিক মতপ্রকাশ বা অবস্থান নেওয়ার বিষয় ছিল না; বরং ব্রাজিলের রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ এবং নাগরিকদের উদ্দেশে স্পষ্ট হুমকি প্রদানের শামিল ছিল। তিনি এদুয়ার্দোর কর্মকাণ্ডকে অবৈধ ও অপরাধমূলক বলে উল্লেখ করেন।
এই রায় বলসোনারো পরিবারের জন্য নতুন একটি আইনি ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। দেশটির ডানপন্থী রাজনীতিতে পরিবারটি এখনো গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ধরে রেখেছে।
সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারো বর্তমানে ২০২২ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের পর ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা সংক্রান্ত মামলায় ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। প্রসিকিউটররা তার কর্মকাণ্ডকে অভ্যুত্থানচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে বলসোনারো ও তার পরিবার শুরু থেকেই মামলাটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছে।
জাতীয় সংসদের সদস্য এদুয়ার্দো বলসোনারো গত কয়েক বছর ধরে বাবার পক্ষে সক্রিয় প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন। ২০২৫ সালে তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন যে বাবার মুক্তির জন্য কাজ করতে তিনি স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করবেন।
প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ব্যবহার করে ব্রাজিলের বিচারিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন। উদ্দেশ্য ছিল জাইর বলসোনারোর বিরুদ্ধে চলমান মামলার ওপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করা।
ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে বলসোনারোর রাজনৈতিক মিত্র হিসেবে পরিচিত। তিনি অতীতে প্রকাশ্যে বলসোনারোর বিচারকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক পদক্ষেপ বলে সমালোচনা করেছিলেন।
২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র ব্রাজিলের কিছু পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয়। সে সময় ট্রাম্প বলসোনারোর বিচারকে ‘ডাইনি শিকার’ আখ্যা দিয়ে তা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
এ ছাড়া বিচারপ্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত এক শীর্ষ বিচারপতির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করা হয়েছিল। পরে সেই নিষেধাজ্ঞা বিচারপতির পরিবারের সদস্য এবং আরও কয়েকজন বিচারিক কর্মকর্তার ক্ষেত্রেও সম্প্রসারিত হয়।
বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা এসব পদক্ষেপকে ব্রাজিলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেন। পরবর্তীতে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নত হলে শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞার কিছু অংশ প্রত্যাহার করা হয়।
এদিকে ব্রাজিলে আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। লুলা চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় ফেরার চেষ্টা করছেন। ধারণা করা হচ্ছে, তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারেন বলসোনারোর জ্যেষ্ঠ ছেলে ফ্লাভিও বলসোনারো।
সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে লুলা এগিয়ে রয়েছেন। তবে নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক সমীকরণ পরিবর্তিত হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
অন্যদিকে জাইর বলসোনারোও নতুন বিতর্কে জড়িয়েছেন। চিকিৎসাজনিত কারণে বাড়িতে অবস্থানকালে তার বাসভবনে একটি আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়ার ঘটনায় আদালত ব্যাখ্যা চেয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তার আইনজীবীদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
















