সুদানের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের মধ্যে মধ্যাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শহর এল-ওবেইদ নতুন করে মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। সশস্ত্র বাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনীর সংঘর্ষে শহরটি ক্রমেই অবরুদ্ধ হয়ে পড়ছে এবং সাধারণ মানুষের জীবন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তা সম্প্রতি শহরটির পরিস্থিতি নিয়ে সর্বোচ্চ সতর্কবার্তা দিয়েছেন। গত মাসে শহরটিতে ধারাবাহিক ড্রোন হামলায় জ্বালানি সংরক্ষণাগার, পানির ব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে কয়েক লাখ মানুষের দৈনন্দিন জীবন মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে।
সংঘাতের কারণে শহর থেকে বের হওয়ার অধিকাংশ পথ বন্ধ হয়ে গেছে। বর্ষার কারণে যোগাযোগ আরও কঠিন হয়ে পড়ায় খাদ্য, ওষুধ ও জরুরি সহায়তা পৌঁছানো এবং নিরাপদে সরে যাওয়া দুটিই বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। যদিও একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পুনর্দখল করায় সাময়িক স্বস্তি ফিরেছে, তবুও পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এর আগে সুদানের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন, ধর্ষণ ও জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির ঘটনাকে আন্তর্জাতিক তদন্তে গণহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হলেও কার্যকর আন্তর্জাতিক উদ্যোগ দেখা যায়নি। সেই ব্যর্থতার ধারাবাহিকতায় এবারও একই ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
প্রবন্ধে আরও বলা হয়েছে, অতীতে বিশ্বনেতারা গণহত্যা প্রতিরোধের অঙ্গীকার করলেও সময়ের সঙ্গে সেই রাজনৈতিক সদিচ্ছা দুর্বল হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক আইন ও জবাবদিহির কাঠামোও নানা কারণে কার্যকারিতা হারাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এতে আরও দাবি করা হয়েছে, সংঘাতে জড়িত পক্ষগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে অনেক দেশ যুদ্ধবিরতির আলোচনায় বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। সমালোচকদের মতে, জবাবদিহি নিশ্চিত না করে কেবল সমঝোতার উদ্যোগ ভবিষ্যতে নতুন সংঘাতের ভিত্তি তৈরি করতে পারে।
প্রবন্ধের লেখকের মতে, শুধু নিন্দা বা উদ্বেগ প্রকাশ নয়, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ প্রয়োজন। অন্যথায় এল-ওবেইদেও অতীতের মতো আরেকটি বড় মানবিক বিপর্যয়ের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে।















