ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করার পাঁচ বছর পর তিউনিসিয়ায় রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, অর্থনৈতিক সংকট এবং ভেঙে পড়া জনসেবাকে ঘিরে জনঅসন্তোষ ক্রমেই বাড়ছে। বিরোধী দল, মানবাধিকারকর্মী ও বিশ্লেষকদের মতে, দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
সম্প্রতি রাজধানীতে হাজারো মানুষ সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অংশ নেয়। বিক্ষোভকারীরা কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসান এবং জীবনযাত্রার ক্রমাবনতির প্রতিবাদ জানান। একই সময়ে সরকারের সমর্থকেরাও পৃথক সমাবেশ করে সরকারের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেন।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ, বিরোধী রাজনীতিক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমের ওপর ধারাবাহিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। সমালোচনামূলক মত প্রকাশের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ায় অনেক সাংবাদিক ও বিশ্লেষক দেশ ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
এদিকে তীব্র তাপপ্রবাহ ও দাবানলের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং পানি সংকট জনজীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে। কৃষি, ব্যবসা ও শিল্প খাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যাপ্ত পরিকল্পনা ও বিনিয়োগের অভাবে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
সরকার বিদ্যুৎ ও পানি সংকট দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিলেও সমালোচকদের দাবি, দেশের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা, অর্থনৈতিক স্থবিরতা এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা মোকাবিলায় কার্যকর সংস্কারের কোনো স্পষ্ট উদ্যোগ এখনো দেখা যায়নি। আন্তর্জাতিক অংশীদারদের একটি অংশও স্থিতিশীলতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় গণতান্ত্রিক সংস্কারের গতি আরও শ্লথ হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত।
















