সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের শাসনামলে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার দায়ে এক সিরীয় নাগরিককে ২৬ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন নেদারল্যান্ডসের একটি আদালত। দেশটির দ্য হেগের আদালত সোমবার এ রায় ঘোষণা করে।
আদালতের রায়ে বলা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তি জিজ্ঞাসাবাদকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় আটক ব্যক্তিদের ওপর নির্যাতন, ধর্ষণ এবং অন্যান্য যৌন সহিংসতায় জড়িত ছিলেন। বিচারক জানান, তিনি সরাসরি এসব অপরাধ সংঘটন করেছেন অথবা অন্যদের দিয়ে করিয়েছেন।
মামলার শুনানিতে উঠে আসে, ২০১৩ ও ২০১৪ সালে বিভিন্ন আটককেন্দ্রে বন্দিদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন চালানো হতো। তাদের উল্টো করে ঝুলিয়ে রাখা, বৈদ্যুতিক শক দেওয়া এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের নানা পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়েছিল।
আদালতের মতে, অন্তত আটজন ভুক্তভোগীর বিরুদ্ধে সংঘটিত নির্যাতন, ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতার ঘটনায় অভিযুক্তের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এসব অপরাধকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
২০২৪ সালের শেষ দিকে বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সিরীয় নাগরিকদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে। এসব মামলার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের সংঘাতকালীন মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো নতুন করে আন্তর্জাতিক আলোচনায় এসেছে।
ইউরোপের আদালতগুলো আন্তর্জাতিক আইনের একটি নীতির আওতায় এসব বিচার পরিচালনা করছে। এই নীতির মাধ্যমে কোনো অপরাধ অন্য দেশে সংঘটিত হলেও গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার করা সম্ভব হয়।
অভিযুক্তকে ২০২৩ সালে নেদারল্যান্ডসে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি সেখানে আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে অবস্থান করছিলেন। পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে তার বিরুদ্ধে আনা কয়েকটি অভিযোগ পরে প্রত্যাহার করা হয়।
এ মামলাটি নেদারল্যান্ডসে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে, কারণ এটি দেশটিতে প্রথম মামলা যেখানে যৌন সহিংসতাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিচার করা হয়েছে।
বিচার চলাকালে অভিযুক্ত সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি পুরো ঘটনাকে ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেন। তার আইনজীবীদের বক্তব্য, অভিযুক্ত নিজেও বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং বর্তমানে মানসিক আঘাতজনিত সমস্যায় ভুগছেন।
এর আগে জার্মানির একটি আদালত সিরিয়ার এক চিকিৎসককে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া শেষে আদালত তাকে হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনায় দায়ী বলে রায় দেয়।
এছাড়া গত বছর ফ্রান্সের একটি আদালত সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ চলাকালে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধে জড়িত থাকার দায়ে এক বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সাবেক মুখপাত্রকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়। অপ্রাপ্তবয়স্কদের যুদ্ধে নিয়োগ এবং যুদ্ধাপরাধের পরিকল্পনায় সহযোগিতার অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
















