“ভারত আমাদের চিরশত্রু, নতুন প্রজন্মকে এটাই শেখাতে হবে”: লে. কর্নেল (অব.) ফেরদৌস আজিজ
ঢাকা, ৮ নভেম্বর ২০২৫: সামরিক কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) ফেরদৌস আজিজ এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত সম্পর্কে কঠোর মন্তব্য করেছেন এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নতুন প্রজন্মকে প্রস্তুত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্রনীতির দুর্বলতা ও জুলাই বিপ্লবের চেতনার প্রতি ‘বেইমানি’ করার অভিযোগ তুলেছেন।
মূল বক্তব্য ও গুরুতর অভিযোগ:
লে. কর্নেল (অব.) ফেরদৌস আজিজ বলেন, “আমি এখানেও এই অনুষ্ঠানে বলে যেতে চাই, ভারত আমাদের চিরশত্রু। আমাদের যত শিশু জন্ম নেবে এখন থেকে আমরা সবাই তাদেরকে এটাই মন্ত্র শেখাবো।”
তিনি তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয়বস্তুগুলোতে নিম্নলিখিত গুরুতর অভিযোগ ও আহ্বান তুলে ধরেন:
- সার্বভৌমত্ব রক্ষা: তিনি বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব কেউ যেন কেড়ে নিতে না পারে এবং দেশ যেন আর কোনো ‘আধিপত্যবাদের কবলে’ না পড়ে। জুলাই বিপ্লবের যোদ্ধারা তাদের রক্ত ‘খামখেলিপনার জন্য’ দেননি।
- পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনা: তিনি পররাষ্ট্র উপদেষ্টার কাছে প্রশ্ন রাখেন, “কার প্ররোচনায়, কার বুদ্ধিতে আপনি ডক্টর জাকির নায়েকের আসাটা বন্ধ করে দিলেন?” তিনি পররাষ্ট্রনীতিকে ‘দুর্বল’ বলে আখ্যা দেন।
- কূটনৈতিক ‘তামাশা’ বন্ধের আহ্বান: তিনি আওয়ামী লীগের শাসনামলে বিভিন্ন সময়ে মাছ ও আম পাঠানোর কূটনৈতিক প্রথাকে ইঙ্গিত করে বর্তমান উপদেষ্টাদেরও আম পাঠানোর বিষয়ে কটাক্ষ করেন। তিনি এই সমস্ত ‘তামাশা বন্ধ’ করার এবং ‘জুলাই যোদ্ধাদের রক্তের সাথে বেইমানি বন্ধ’ করার আহ্বান জানান।
- নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য: তিনি বলেন, রক্ত দেওয়া হয়েছিল নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্য, কারো ‘দাবিদারি করার জন্য’ বা কোনো ‘সেবাদাস তৈরি করার জন্য’ নয়। তিনি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ এবং নতুন ধারার রাজনীতি ও সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার দাবি জানান।
সুশাসন ও জাতি গঠনের আহ্বান:
লে. কর্নেল (অব.) ফেরদৌস আজিজ একটি সমমর্যাদা ও সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়ার ওপর জোর দেন।
- সমান অধিকার: তিনি বলেন, এই দেশে কারো অধিকার সমান, কেউ কারো দাস বা প্রজা নয়। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, মুসলমান, পাহাড়ী, বাংলাদেশী—ধর্ম-জাত নির্বিশেষে সকলের অধিকার সমান।
- প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা: তিনি দাবি করেন, আদালত স্বাধীন হতে হবে এবং পুলিশকে জনগণের বন্ধু হতে হবে। পুলিশ রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালন করবে, কোনো রাজনৈতিক দলের ‘চামচা’ হবে না। সরকারি কর্মকর্তারা হবেন জনগণের সেবক ও সার্বভৌমত্বের রক্ষক।
- জাতীয় ঐক্য: তিনি বলেন, “দালালি করে চুক্তি করে ভারতকে দিয়ে দিলাম আমার দেশ—তাহলে আর বেতন দিচ্ছি আমি আর বেইমানি করছেন?” তিনি আগামীতে এটি হতে না দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, দলমত নির্বিশেষে ঐক্য দরকার। এই জাতি ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো শক্তিই দেশকে পরাজিত করতে পারবে না।
















