ইরানের কঠোর সতর্কবার্তার পরও দক্ষিণ লেবাননে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এসব হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত এবং আরও কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের কর্তৃপক্ষ।
সোমবারের হামলাগুলো ঘটে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলার পাল্টাপাল্টি ঘটনার পর। কয়েক ঘণ্টার সংঘর্ষের পর উভয় পক্ষ হামলা বন্ধের ঘোষণা দিলেও লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ উপকূলীয় শহরে একটি ত্রাণকেন্দ্রের কাছে ইসরায়েলি হামলায় পাঁচজন নিহত হন। আহত হন আরও আটজন, যাদের মধ্যে কয়েকজন চিকিৎসাসেবাকর্মী রয়েছেন। হামলায় একটি বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আরেকটি হামলায় দক্ষিণাঞ্চলের একটি এলাকায় দুইজন নিহত হন, যাদের মধ্যে একটি শিশু রয়েছে। এতে আহত হয়েছেন আরও ১০ জন। অন্যদিকে আরেক জেলায় পৃথক হামলায় সাতজন নিহত এবং আটজন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন নারী ও একটি শিশুও রয়েছে।
লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, তারা দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযান পরিচালনা করেছে। সংগঠনটির দাবি, তারা ইসরায়েলি সামরিক যান ধ্বংস করেছে, সেনা সমাবেশে হামলা চালিয়েছে এবং একটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
মার্চ মাসে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাতের বিস্তারের পর লেবাননও এই সংকটে জড়িয়ে পড়ে। এপ্রিলের শুরুতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও লেবাননে ইসরায়েলের অভিযান থামেনি।
ইরানের সামরিক বাহিনী সোমবার জানায়, লেবাননের বিরুদ্ধে আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে আরও কঠোর ও বিধ্বংসী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এই হুঁশিয়ারি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং প্রয়োজন হলে রাজধানীর দক্ষিণ উপশহরেও হামলা চালানো হবে।
লেবাননের প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ের পর থেকে দেশটিতে হাজার হাজার বিমান হামলা, শত শত ভবন ধ্বংস এবং একাধিক গ্রাম সম্পূর্ণভাবে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে।
দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, মার্চের শুরু থেকে চলমান ইসরায়েলি হামলায় মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩ হাজার ৬৩৭ জনে পৌঁছেছে। আহত হয়েছেন ১১ হাজারেরও বেশি মানুষ।
সংঘাতের কারণে ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রগুলো ইতোমধ্যে পূর্ণ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে, বাস্তুচ্যুত মানুষের অধিকাংশই মৌলিক চাহিদা পূরণে হিমশিম খাচ্ছেন। অনেকেই নিজ এলাকায় ফিরে গিয়ে দেখছেন তাদের বাড়িঘর কিংবা পুরো গ্রাম ধ্বংস হয়ে গেছে।
















