নোয়াখালীর হাতিয়ায় স্থানীয় সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের জন্য নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরিতে ফেরি ছাড়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে শত শত যাত্রীকে দীর্ঘ সময় ফেরিতে ও ঘাটে অপেক্ষা করতে হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার বিকেলে চেয়ারম্যান ঘাট থেকে ছেড়ে আসা ফেরি মহানন্দা সন্ধ্যার আগে হাতিয়ার নলচিরা ঘাটে পৌঁছায়। নিয়ম অনুযায়ী যাত্রী, যানবাহন ও পণ্য ওঠানামার কাজ শেষ করে সন্ধ্যার মধ্যেই ফেরিটির পুনরায় চেয়ারম্যান ঘাটের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের প্রায় দুই ঘণ্টা পর ফেরিটি ছেড়ে যায়।
যাত্রীদের অভিযোগ, বিকেল থেকেই মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের বুকিং নেওয়া হলেও ঘাটে পৌঁছানোর পর দীর্ঘ সময় সেগুলো ফেরিতে ওঠানো হয়নি। এতে ফেরিতে থাকা যাত্রীদের পাশাপাশি ঘাটে অপেক্ষমাণ মানুষও চরম ভোগান্তিতে পড়েন। গরম আবহাওয়ার কারণে নারী ও শিশুদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
ফেরির এক যাত্রী জানান, সময়মতো ফেরি না ছাড়ার কারণ জানতে চাইলে কর্তৃপক্ষ তাঁদের বলেন, সংসদ সদস্য আসার পর ফেরি ছেড়ে দেওয়া হবে। এতে কয়েক শ যাত্রী দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে বাধ্য হন।
বিলম্বের কারণে অনেক যাত্রী চেয়ারম্যান ঘাট, সোনাপুর কিংবা জেলা শহর মাইজদী থেকে ঢাকাগামী রাতের বাস ধরতে পারেননি বলেও অভিযোগ উঠেছে। ফলে অনেককে সারা রাত বিভিন্ন বাস কাউন্টারে অপেক্ষা করতে হয়েছে।
ফেরির মাস্টার মোজাম্মেল হক বলেন, আগেই জানানো হয়েছিল যে সংসদ সদস্য ফেরিতে উঠবেন, তাই ফেরি ছাড়তে কিছুটা দেরি হবে। এ কারণে শুরুতে যানবাহন ওঠানো হয়নি। পরে রাত আটটার পর ফেরিটি গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দেয়। তবে তাঁর দাবি, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বিলম্ব ছিল প্রায় ৪৫ মিনিট।
অন্যদিকে সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল ও অসাধু সিন্ডিকেট পরিকল্পিতভাবে ঘাটে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। তাদের কারণে যানবাহন ফেরিতে উঠতে পারেনি এবং সড়কে যানজট তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নির্ধারিত সময়েই তিনি ঘাটে পৌঁছেছিলেন এবং তাকেও প্রায় ৪৫ মিনিট অপেক্ষা করতে হয়েছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিষয়টি নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
















