নতুন হালনাগাদ স্যাটেলাইট চিত্রে গাজার দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র উঠে এসেছে। শহর, কৃষিজমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমনকি কবরস্থানও অনেক জায়গায় মানচিত্র থেকে মুছে গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব ছবি গাজার ভৌগোলিক ও সামাজিক কাঠামোর গভীর পরিবর্তনের প্রমাণ বহন করছে।
দক্ষিণাঞ্চলের একটি কবরস্থানে সমাহিত দুই বোনের কবর খুঁজে পাওয়ার আশা ছেড়ে দিয়েছেন এক ফিলিস্তিনি সাংবাদিক। সম্প্রতি প্রকাশিত স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা যায়, কবরস্থানের জায়গায় এখন সামরিক স্থাপনা, সাঁজোয়া যান ও অস্থায়ী ঘাঁটি তৈরি হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গাজার অধিকাংশ কবরস্থান সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে, দক্ষিণাঞ্চলের বহু আবাসিক এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। একসময় হাজারো মানুষের বসবাস ছিল এমন বহু পাড়া এখন শুধু ভাঙা ভবনের স্তূপ। সীমান্তবর্তী গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথগুলোর বেসামরিক অবকাঠামোও বিলীন হয়ে সেখানে সামরিক নজরদারি কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে।
একসময় সমুদ্রনির্ভর জীবিকা ও মৎস্যশিল্পের জন্য পরিচিত উপকূলীয় গ্রামগুলোর অনেকগুলো এখন প্রায় সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন। স্থানীয়দের মতে, বহু পরিবার তাদের ঘরবাড়ি হারিয়ে উপকূলীয় অস্থায়ী শিবিরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।
আবাসন প্রকল্প, বহুতল ভবন ও ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকা ব্যাপক বোমাবর্ষণ ও সামরিক অভিযানে ধ্বংস হয়ে গেছে। বহু মানুষ বারবার স্থানচ্যুত হয়ে উপকূলবর্তী অস্থায়ী তাঁবু শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে, যেখানে জীবনযাত্রা অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে উঠেছে।
শিক্ষা খাতও ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়েছে। অধিকাংশ স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে এবং কয়েক লাখ শিশু দীর্ঘ সময় ধরে আনুষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে রয়েছে। বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ও ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে অথবা আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
কৃষিজমি ও গ্রিনহাউস ধ্বংস হওয়ায় খাদ্য উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। একসময় যেসব এলাকা বিপুল পরিমাণ সবজি ও ফল উৎপাদন করত, সেগুলোর বেশিরভাগই এখন অনাবাদি। স্থানীয় সাংবাদিকদের মতে, খাদ্য সংকট দিন দিন তীব্র হচ্ছে এবং বহু পরিবার নিয়মিত খাবার জোগাড় করতে পারছে না।
স্যাটেলাইট চিত্রে উপকূলীয় আশ্রয়শিবিরগুলোর অস্বাভাবিক ঘনত্বও দেখা গেছে। সীমিত জায়গায় অসংখ্য তাঁবু গাদাগাদি করে স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে লাখো বাস্তুচ্যুত মানুষ বসবাস করছে।
এদিকে ইসরায়েলি নেতৃত্ব গাজায় নিয়ন্ত্রণ আরও বিস্তারের ইঙ্গিত দিয়েছে। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সামরিক বাহিনী ধীরে ধীরে আরও এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিচ্ছে। সমালোচকদের মতে, এতে যুদ্ধবিরতি ও শান্তি প্রচেষ্টার ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে।
স্থানীয়দের ভাষায়, ধ্বংস হওয়া ভবন বা রাস্তার চেয়ে বড় ক্ষতি হলো স্মৃতি, পরিবার ও জীবনের গল্পগুলোর হারিয়ে যাওয়া। স্যাটেলাইট ছবি ধ্বংসস্তূপ দেখাতে পারে, কিন্তু মানুষ যে ঘর, স্বজন ও অতীত হারিয়েছে, সেই বেদনা ধারণ করতে পারে না।
















