মার্কিন রাজনৈতিক ভাষ্যকার জেঙ্ক উইগুর ও হাসান পাইকার দাবি করেছেন, ইসরায়েলবিষয়ক তাদের প্রকাশ্য মন্তব্যের কারণে যুক্তরাজ্য তাদের দেশে প্রবেশের অনুমতি বাতিল করেছে।
অনলাইন রাজনৈতিক সংবাদ ও মতামতভিত্তিক নেটওয়ার্কের সহপ্রতিষ্ঠাতা উইগুর জানান, লন্ডনগামী বিমানে ওঠার সময় তিনি জানতে পারেন যে তাকে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। সেখানে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নেওয়া এবং একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল তার।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একাধিক পোস্টে তিনি বলেন, ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ তাকে “জনশৃঙ্খলার জন্য গুরুতর ঝুঁকি” হিসেবে বিবেচনা করছে।
তার অভিযোগ, যুক্তরাজ্য সরকার ইসরায়েলের সমালোচনার কারণেই তাকে নিষিদ্ধ করেছে। তিনি বলেন, ইসরায়েলের রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে তার মন্তব্যকে কর্তৃপক্ষ ইহুদিবিদ্বেষী হিসেবে দেখেছে।
উইগুর আরও বলেন, তিনি যুক্তরাজ্যের সমালোচনার কারণে নয়, বরং ইসরায়েল নিয়ে মন্তব্য করার কারণেই এই সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হয়েছেন। পুরো বিষয়টিকে তিনি “অযৌক্তিক” বলে আখ্যা দেন।
পরে তার ভাতিজা ও জনপ্রিয় রাজনৈতিক স্ট্রিমার হাসান পাইকারও জানান, একই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার প্রস্তুতির সময় তার ভিসাও বাতিল করা হয়েছে।
পাইকার দাবি করেন, ইসরায়েলের সমালোচনামূলক অবস্থানের কারণেই তার বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এক সরাসরি সম্প্রচারে তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতি উদ্বেগজনক, যেখানে ইসরায়েল-সংক্রান্ত স্বার্থ অন্য সব কিছুর চেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইসরায়েলপন্থি সংগঠনগুলোর প্রভাব এতটাই শক্তিশালী যে তা যুক্তরাজ্যের নীতিনির্ধারণেও প্রভাব ফেলছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর্মকর্তারা উইগুরের উপস্থিতিকে “জনস্বার্থের অনুকূল নয়” বলে বিবেচনা করেছেন। পাইকারের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
সম্প্রতি যুক্তরাজ্য এক মার্কিন সংগীতশিল্পীর দেশটিতে প্রবেশও নিষিদ্ধ করেছিল। কর্তৃপক্ষ তার অতীতের ইহুদিবিদ্বেষী মন্তব্যের কথা উল্লেখ করে সেই সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নেয়।
যুক্তরাজ্য, ইসরায়েল, জেঙ্ক উইগুর, হাসান পাইকার, ভিসা বাতিল, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক ভাষ্যকার, ফিলিস্তিন, আন্তর্জাতিক রাজনীতি, কূটনৈতিক বিতর্ক
















