যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারকের আলোচনা “প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে” পৌঁছেছে। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি আবারও খুলে যেতে পারে বলে আশা তৈরি হয়েছে।
ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ রয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, যিনি আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছেন, জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরবর্তী দফার আলোচনা খুব শিগগিরই অনুষ্ঠিত হবে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বলেছেন, আলোচনায় “অর্থবহ অগ্রগতি” হয়েছে এবং স্থায়ী সমাধানের ব্যাপারে আশাবাদ তৈরি হয়েছে।
তবে ইরানের সংবাদমাধ্যম ফার্স ট্রাম্পের কিছু বক্তব্যের বিরোধিতা করেছে। তাদের দাবি, খসড়া চুক্তি অনুযায়ী হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতেই থাকবে এবং ট্রাম্পের কিছু মন্তব্য “বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়”।
এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠক ডাকতে যাচ্ছেন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ভারত সফরে গিয়ে বলেছেন, হরমুজ প্রণালির সংকট সমাধানে “গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি” হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ইরান বিশ্বজুড়ে “সন্ত্রাসবাদে” সহায়তা করছে এবং তেহরানের কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র থাকা উচিত নয়।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে “সম্পর্ক উন্নয়নের প্রবণতা” দেখা গেলেও তা চূড়ান্ত সমঝোতার নিশ্চয়তা নয়।
তিনি জানান, প্রথম ধাপে একটি সমঝোতা স্মারক বা কাঠামোগত চুক্তি তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে এবং এরপর ৩০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে বিস্তারিত চুক্তি চূড়ান্ত করার আশা করা হচ্ছে।
ইরানের সংবাদমাধ্যম তাসনিম জানিয়েছে, প্রস্তাবিত সমঝোতা অনুযায়ী ৩০ দিনের মধ্যে নৌ অবরোধ তুলে নিতে হবে এবং ইরানের জব্দকৃত অর্থের একটি অংশ প্রথম ধাপেই ছেড়ে দিতে হবে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির অনুমতি ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তি করা হবে না।
তেহরান থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক বলেছেন, এখনই এই সমঝোতাকে “বিজয়” বলা খুব তাড়াহুড়ো হয়ে যাবে। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে ইরানের মধ্যে এখনো গভীর অবিশ্বাস রয়েছে।
এদিকে ইরান তাদের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি শিবির যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে মেক্সিকোতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা অনুমোদন দেওয়ার পর এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়।
লেবাননে দক্ষিণাঞ্চলীয় একটি বেসামরিক প্রতিরক্ষা কেন্দ্র ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংস হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
সীমান্ত এলাকায় এক ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছে। মার্চের পর থেকে হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘাতে এখন পর্যন্ত ২২ জন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছে।
হিজবুল্লাহ প্রধান নাইম কাসেম জানিয়েছেন, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পাঠানো বার্তায় লেবাননকে যুদ্ধবিরতির আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
গাজায় ভোররাতের এক ইসরায়েলি হামলায় একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে এক বছরের একটি শিশুও রয়েছে।
















