পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান কারাবন্দি থাকার তিন বছর পূর্তিতে তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দেশজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে। একই সঙ্গে তার পরিবার, দল এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল তার আটককে ‘স্বেচ্ছাচারী’ আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে মুক্তি ও সাংবিধানিক অধিকার পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে।
কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই বুধবার ইসলামাবাদ, লাহোরসহ বিভিন্ন শহরে হাজারো পিটিআই সমর্থক ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেন। ২০২২ সালে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দুর্নীতি ও রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য ফাঁসসহ একাধিক মামলায় ২০২৩ সালের ৫ আগস্ট তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি দুর্নীতির মামলায় ১৪ বছরের সাজা ভোগ করছেন। একই মামলায় তার স্ত্রী বুশরা বিবির সাত বছরের কারাদণ্ড হয়েছে। এছাড়া রাষ্ট্রীয় উপহার সংক্রান্ত আরেক মামলায় দুজনেরই অতিরিক্ত ১৭ বছরের সাজা হয়েছে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অভিযোগ করেছে, গত আট মাস ধরে ইমরান খান পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি এবং ডিসেম্বরের পর থেকে আইনজীবীদের সঙ্গেও অর্থবহ যোগাযোগের সুযোগ পাননি। সংস্থাটি বলেছে, দীর্ঘ একাকী বন্দিত্ব, চিকিৎসা ও সাক্ষাতের অধিকার সীমিত করা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের পরিপন্থী। জাতিসংঘের দুটি পৃথক সংস্থাও এর আগে তার আটক পরিস্থিতিকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে অসঙ্গত বলে মন্তব্য করেছে।
ইমরান খানের শারীরিক অবস্থাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে তার ডান চোখে রেটিনার সমস্যা ধরা পড়ে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের আবেদন বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন।
তবে পাকিস্তান সরকার এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তালাল চৌধুরী বলেন, ইমরান খানের কারাবাস বিচারিক তত্ত্বাবধানে রয়েছে এবং তাকে অন্যান্য বন্দির তুলনায় উন্নত সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। সরকার আরও জানিয়েছে, তার মুক্তি কেবল আদালতের আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সম্ভব, রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে নয়।
















