ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান মধ্যস্থতামূলক আলোচনায় এখনো বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে বলে জানিয়েছে তেহরান। এর মধ্যেই পাকিস্তানের সেনাপ্রধান Asim Munir শুক্রবার তেহরান সফরে পৌঁছেছেন, যেখানে যুদ্ধবিরতি ও সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় “গভীর ও গুরুত্বপূর্ণ” মতভেদ এখনো কাটেনি। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি এবং যুদ্ধ বন্ধের শর্ত নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থানে বড় পার্থক্য রয়েছে।
ইরান বলছে, সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ না হলে ভবিষ্যৎ কোনো আলোচনাই সফল হবে না। একই সঙ্গে দেশটি হরমুজ প্রণালিকে নিজেদের “নতুন বাস্তবতা” হিসেবে উল্লেখ করে সেখানে চলাচলকারী জাহাজগুলোর নিরাপত্তাকে একটি “নিরাপত্তা সেবা” বলে দাবি করেছে। ইরানের তথ্যমতে, গত এক দিনে ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড বাহিনীর সমন্বয়ে ৩০টির বেশি জাহাজ হরমুজ অতিক্রম করেছে।
তেহরান জানিয়েছে, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, কারণ অতীতের আলোচনা শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ পরিস্থিতির দিকে নিয়ে গিয়েছিল। ইরান আবারও শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক জ্বালানি কর্মসূচির অধিকার দাবি করেছে।
এদিকে ফ্রান্স জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌ-মিশন গঠনের একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেছে। তবে রাশিয়া ও চীন এতে ভেটো দিতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Marco Rubio বলেছেন, আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে, তবে বড় ধরনের মতভেদ এখনো রয়ে গেছে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, কূটনীতি ব্যর্থ হলে ওয়াশিংটনের হাতে “অন্যান্য বিকল্প”ও রয়েছে।
অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ছে। লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে স্বাস্থ্যকর্মী ও প্যারামেডিকও রয়েছেন। একই সময়ে গাজা যুদ্ধ নিয়ে হামাস অভিযোগ করেছে, ইসরায়েল ফিলিস্তিনিদের ভূখণ্ড থেকে উচ্ছেদ করার লক্ষ্যেই অভিযান চালাচ্ছে।
তেলের দাম বৃদ্ধি ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে লেবাননের অর্থনীতিতেও নতুন চাপ তৈরি হয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, জ্বালানি ও পণ্যের খরচ বাড়ায় জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়ছে।
















