ব্রিটেনের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির নেতৃত্ব পরিবর্তনের সম্ভাবনাকে ঘিরে আবারও সামনে এসেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার প্রশ্ন। একই সঙ্গে মেকারফিল্ড আসনের উপনির্বাচনেও বিষয়টি বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠছে।
সম্প্রতি মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করা সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং শনিবার লন্ডনে এক অনুষ্ঠানে বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগ করা ছিল “ভয়াবহ ভুল”।
লেবার পার্টির ব্লেয়ারপন্থি অংশের আয়োজিত এক সম্মেলনে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের বিরুদ্ধে নেতৃত্বের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামার ঘোষণা দেন।
তার বক্তব্যের পরপরই বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টির চেয়ারম্যান কেভিন হলিনরেক লেবারের সমালোচনা করে বলেন, ব্রেক্সিট নিয়ে পুরোনো বিতর্কে জড়িয়ে সরকার দেশ পরিচালনায় ব্যর্থ হচ্ছে।
তিনি বলেন, যখন সাধারণ মানুষ জীবনযাত্রার ব্যয়, অর্থনীতি, জনসেবা ও জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন, তখন এই বিতর্ক নতুন বিভ্রান্তি তৈরি করছে।
স্টারমারের নেতৃত্বে লেবার এতদিন ব্রেক্সিট ইস্যুতে সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছিল। দলটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক চাইলেও একক বাজার বা শুল্ক ইউনিয়নে পুনরায় যোগ দেওয়ার বিপক্ষে অবস্থান নেয়।
তবে স্ট্রিটিং তার বক্তব্যে বলেন, বিরোধী দলে থাকার সময় লেবার অতিরিক্ত সতর্ক ছিল এবং প্রতিপক্ষ কী বলবে সেই ভয় থেকে অনেক বড় সিদ্ধান্ত এড়িয়ে গেছে।
তিনি বলেন, ব্রেক্সিটের ফলে ব্রিটেন অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক প্রভাবও কমেছে। তার মতে, ব্রিটেনের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক সুযোগ ইউরোপের সঙ্গেই জড়িত।
স্ট্রিটিং আরও বলেন, একদিন ব্রিটেনকে আবার ইউরোপীয় ইউনিয়নে ফিরতে হবে। তবে তিনি জানান, এমন সিদ্ধান্তের জন্য নতুন গণরায় প্রয়োজন হবে।
এদিকে ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যামের অবস্থানও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তিনি মেকারফিল্ড উপনির্বাচনে লেবারের প্রার্থী হতে চান। নির্বাচনে জয়ী হলে তিনি নেতৃত্বের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামতে পারবেন।
শনিবার প্রচারণায় অংশ নিয়ে বার্নহ্যাম বলেন, দীর্ঘমেয়াদে ইউরোপীয় ইউনিয়নে ফেরার পক্ষে যুক্তি রয়েছে। তবে তিনি জানান, এই উপনির্বাচনে সেটিকে প্রধান ইস্যু করতে চান না।
এর আগে বার্নহ্যামও বলেছিলেন, ব্রেক্সিটে জনগণের রায়কে তিনি সম্মান করেন এবং ভবিষ্যতে ইউরোপীয় ইউনিয়নে ফেরার সিদ্ধান্ত হলে সেটি নতুন গণরায়ের ভিত্তিতেই হতে হবে।
ডানপন্থি রিফর্ম পার্টি ইতোমধ্যে এই ইস্যু ব্যবহার করে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা শুরু করেছে। দলটি জানিয়েছে, মেকারফিল্ড এলাকায় ২০১৬ সালের গণভোটে প্রায় ৬৫ শতাংশ ভোটার ব্রেক্সিটের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন।
দলটির মুখপাত্র বলেন, বার্নহ্যাম হয়তো তার আগের মন্তব্যগুলো ভুলিয়ে দিতে চাইবেন, কিন্তু তারা ভোটারদের সেই অবস্থান স্মরণ করিয়ে দেবেন।
অন্যদিকে বার্নহ্যাম বলেছেন, গত চার দশক ধরে ব্রিটেন ভুল পথে এগোচ্ছে। তার মতে, শিল্পহীনতা, বেসরকারিকরণ ও নিয়ন্ত্রণহীন অর্থনৈতিক নীতির কারণে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি নতুন শিল্পায়ন, গণপরিবহন ও আবাসন খাতে বড় সরকারি বিনিয়োগের পক্ষে মত দেন।
ব্রিটেনের ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে নতুন এই বিতর্ক আবারও প্রমাণ করছে, ব্রেক্সিট এখনো দেশটির রাজনীতিতে বড় বিভাজনের বিষয় হয়ে রয়েছে।
লিবারেল ডেমোক্র্যাট ও গ্রিন পার্টিও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক কিংবা ভবিষ্যতে পুনরায় যোগ দেওয়ার পক্ষে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে।
















