ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী কাতাইব হিজবুল্লাহর একজন জ্যেষ্ঠ সদস্য বলে অভিযুক্ত ইরাকি নাগরিক মোহাম্মদ বাকের সাদ দাউদ আল-সাদিকে গ্রেপ্তার করে তাঁর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদসংক্রান্ত অভিযোগ এনেছে যুক্তরাষ্ট্র।
শুক্রবার নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের একটি ফেডারেল আদালতে প্রকাশিত অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ৩২ বছর বয়সী আল-সাদি যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপজুড়ে অন্তত ১৮টি হামলা ও হামলার চেষ্টার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপ বন্ধে চাপ সৃষ্টি করতেই এসব হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল জানিয়েছেন, আল-সাদিকে বিদেশে গ্রেপ্তার করে যুক্তরাষ্ট্রে আনা হয়েছে। তিনি তাঁকে “বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবাদের জন্য দায়ী গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু” হিসেবে উল্লেখ করেন।
মোহাম্মদ বাকের সাদ দাউদ আল-সাদি কে
মার্কিন প্রসিকিউটরদের ভাষ্য অনুযায়ী, আল-সাদি ইরাকভিত্তিক কাতাইব হিজবুল্লাহর একজন উচ্চপর্যায়ের নেতা। যুক্তরাষ্ট্র এই গোষ্ঠীকে “বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন” হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।
এফবিআই বলছে, অন্তত ২০১৭ সাল থেকে তিনি সংগঠনটির সক্রিয় সদস্য ছিলেন এবং ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, আল-সাদির সঙ্গে নিহত কুদস ফোর্স কমান্ডার কাসেম সোলাইমানির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম স্ন্যাপচ্যাট ও টেলিগ্রামে তিনি তাঁদের কর্মকাণ্ডের প্রচার চালাতেন এবং হামলার প্রশংসা করতেন।
অভিযোগ কী
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, মার্চের মাঝামাঝি সময়ে নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডামে ব্যাংক অব নিউইয়র্ক মেলনের একটি ভবনে অগ্নিবোমা হামলা, টরন্টোতে মার্কিন কনস্যুলেটে গুলি এবং লন্ডনে এক মার্কিন নাগরিককে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় আল-সাদি জড়িত ছিলেন।
এ ছাড়া ফ্রান্সের প্যারিসে ব্যাংক অব আমেরিকার একটি কার্যালয়ে হামলার পরিকল্পনাও তিনি করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ফরাসি পুলিশ সেখানে বিস্ফোরকভর্তি একটি বোমা উদ্ধার করে হামলা নস্যাৎ করে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, গত মাসে আল-সাদি যুক্তরাষ্ট্রে হামলার পরিকল্পনাও করেন। এফবিআইয়ের একজন তথ্যদাতা ও ছদ্মবেশী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে নিউইয়র্কের একটি উপাসনালয় এবং ক্যালিফোর্নিয়া ও অ্যারিজোনার ইহুদি কেন্দ্রগুলোতে একযোগে হামলার জন্য তিনি ১০ হাজার ডলার সমমূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি দেওয়ার প্রস্তাব দেন।
আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আল-সাদি বলেছিলেন, তিনি “মানুষ হত্যা করতেও প্রস্তুত”। এমনকি ৩ হাজার ডলারের অগ্রিম দেওয়ার পর তিনি বার্তায় লেখেন, “আজ রাতেই ভালো খবর দেখতে চাই।”
যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে
আল-সাদির বিরুদ্ধে ছয়টি ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
- সন্ত্রাসী সংগঠনকে সহায়তার ষড়যন্ত্র
- সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সহায়তা প্রদান
- জনসমাগমস্থলে বোমা হামলার ষড়যন্ত্র
- আগুন বা বিস্ফোরকের মাধ্যমে সম্পত্তি ধ্বংস
শুক্রবার আদালতে হাজির করা হলে আল-সাদি কোনো বক্তব্য দেননি। তবে তাঁর আইনজীবী অ্যান্ড্রু ডালাক দাবি করেছেন, তাঁর মক্কেল “রাজনৈতিক বন্দী” এবং “যুদ্ধবন্দী”।
আইনজীবীর ভাষ্য, সোলাইমানির সঙ্গে সম্পর্ক থাকার কারণেই যুক্তরাষ্ট্র তাঁকে টার্গেট করেছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ব্রুকলিনের ফেডারেল কারাগারে নেওয়ার পর থেকে আল-সাদিকে একাকী কক্ষে রাখা হয়েছে।
মার্কিন সরকার অভিযোগ প্রমাণ করতে পারলে আল-সাদির সর্বোচ্চ শাস্তি হতে পারে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।
















