মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে বিমান জ্বালানির দাম হঠাৎ বেড়ে গেছে। এতে গ্রীষ্মকালীন ছুটির ভ্রমণ পরিকল্পনা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশেষ করে ইউরোপের দেশগুলো বিমান জ্বালানির বড় অংশ আমদানি করে এবং তার উল্লেখযোগ্য অংশ আসে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে। সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের জন্য হাহাকার শুরু হয়েছে, যার ফলে দাম বেড়েছে কয়েকগুণ।
বিশ্লেষকদের মতে, বিমান জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ইতোমধ্যে অনেক বিমান সংস্থা টিকিটের মূল্য বাড়িয়েছে এবং কিছু রুটে ফ্লাইট কমিয়ে দিয়েছে। যদি সংকট দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে সামনে আরও বেশি ফ্লাইট বাতিল এবং ভ্রমণ বিঘ্নের সম্ভাবনা রয়েছে।
বিমান সংস্থাগুলোর জন্য জ্বালানি খরচ সবচেয়ে বড় ব্যয়ের একটি অংশ। ফলে দাম বাড়লে সরাসরি প্রভাব পড়ে তাদের আয় এবং পরিষেবার ওপর। কিছু সংস্থা আগেই নির্দিষ্ট দামে জ্বালানি কিনে ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করলেও তা পুরো পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছে না।
এদিকে ইউরোপে তেল পরিশোধন ক্ষমতা কমে যাওয়াও সমস্যাকে আরও জটিল করেছে। ফলে বাইরে থেকে আমদানির ওপর নির্ভরতা বেড়েছে এবং সরবরাহে সামান্য বাধাও বড় সংকটে পরিণত হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলেছে, মজুত দ্রুত কমে গেলে কিছু বিমানবন্দরে বাস্তব জ্বালানি সংকট দেখা দিতে পারে, যা সরাসরি ফ্লাইট বাতিলের দিকে নিয়ে যাবে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড় বিমানবন্দরগুলো আগে জ্বালানি পাবে, আর ছোট বিমানবন্দরগুলো বেশি ঝুঁকিতে থাকবে। ফলে সব জায়গায় একসঙ্গে সংকট না দেখা দিলেও পরিস্থিতি বিশৃঙ্খল হতে পারে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারগুলো কিছু নীতি পরিবর্তনের কথা ভাবছে, যাতে বিমান সংস্থাগুলো আগেই ফ্লাইট কমাতে পারে এবং হঠাৎ করে বাতিলের সংখ্যা কমানো যায়।
সব মিলিয়ে, জ্বালানি সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে গ্রীষ্মের ছুটির ভ্রমণ পরিকল্পনায় বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।
















