যুক্তরাজ্য সরকার ফিলিস্তিনপন্থী সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণার বিরুদ্ধে আদালতের রায় চ্যালেঞ্জ করতে যাচ্ছে, যা দেশটির রাজনীতি ও নাগরিক অধিকার প্রশ্নে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
লন্ডনের কোর্ট অব আপিল এ মঙ্গলবার শুরু হওয়া শুনানিতে সরকার হাইকোর্ট এর সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে, যেখানে বিচারকরা বলেন, ফিলিস্তিন অ্যাকশনকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করা “অসামঞ্জস্যপূর্ণ” ও বেআইনি।
এই সংগঠনটি, প্যালেস্টাইন অ্যাকশন, মূলত ইসরায়েলি সামরিক খাতের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে সরাসরি কর্মসূচি চালায়। গত বছর সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করার পর থেকে যুক্তরাজ্যে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়।
সরকারি নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে প্রায় ২ হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। “আমি গণহত্যার বিরোধী, আমি প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে সমর্থন করি” লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে আন্দোলনকারীরা রাস্তায় নামেন।
যদিও হাইকোর্টের রায়ে সরকারের অবস্থান দুর্বল হয়েছে, তবুও আপিল প্রক্রিয়া চলাকালে নিষেধাজ্ঞা এখনো বহাল রয়েছে এবং সংগঠনটির প্রতি সমর্থন জানানো আইনত দণ্ডনীয়।
লন্ডনের পুলিশ শুরুতে গ্রেপ্তার না করার ইঙ্গিত দিলেও পরে অবস্থান পরিবর্তন করে আবারও গ্রেপ্তার শুরু করে। সম্প্রতি রাজধানীতে শতাধিক বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে।
এদিকে লেখক স্যালি রুনি, পরিবেশকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ এবং ইতিহাসবিদ ইলান পাপে সহ বিভিন্ন খ্যাতনামা ব্যক্তি সংগঠনটির প্রতি সমর্থন জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন, যা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই নিষেধাজ্ঞাকে “অতিরিক্ত ক্ষমতার অপব্যবহার” হিসেবে উল্লেখ করে বলেছে, এতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন দমনের চেষ্টা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে সরকার দাবি করছে, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এখন আপিল আদালতের রায়ের দিকে তাকিয়ে রয়েছে সংশ্লিষ্ট সবাই, যা এই বিতর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
















