নিউজিল্যান্ডের প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, তাদের একটি নজরদারি বিমান সমুদ্রে উত্তর কোরিয়ার একটি জাহাজকে সন্দেহজনক পণ্য আদান-প্রদানে জড়িত অবস্থায় শনাক্ত করেছে, যা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের ইঙ্গিত বহন করে।
প্রতিরক্ষা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘপাল্লার নজরদারি বিমান পি-৮এ পোসেইডন আন্তর্জাতিক জলসীমায় হলুদ সাগর ও পূর্ব চীন সাগরের ওপর টহল চলাকালে এই কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে।
বলা হয়েছে, ওই এলাকায় নজরদারির সময় মোট ৩৫টি সন্দেহজনক জাহাজের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হয়। এর মধ্যে একাধিক জাহাজের মধ্যে সমুদ্রে পণ্য স্থানান্তরের ঘটনা ধরা পড়ে, যা জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
নিউজিল্যান্ডের বিমান বাহিনীর কর্মকর্তা অ্যান্ডি স্কট বলেন, সংগৃহীত তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নিতে সহায়তা করবে। তবে কী ধরনের পণ্য আদান-প্রদান হয়েছে, তা প্রকাশ করা হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়া সাধারণত সমুদ্রপথে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি এবং কয়লা, লোহা ও বালু রপ্তানি করে থাকে, যা তাদের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির অর্থায়নে ব্যবহৃত হয়।
২০০৬ সালে প্রথম পারমাণবিক পরীক্ষা চালানোর পর থেকেই উত্তর কোরিয়ার ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়, যা ২০১৬ ও ২০১৭ সালে আরও কঠোর করা হয়। এরপরও দেশটি সীমিত পরিসরে কিছু দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে।
নিউজিল্যান্ড ২০১৮ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন একটি সামুদ্রিক নিরাপত্তা উদ্যোগে অংশ নিচ্ছে, যার লক্ষ্য সমুদ্রে অবৈধ লেনদেন ও নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন নজরদারি করা।
এই সর্বশেষ ঘটনার পর আন্তর্জাতিক মহলে আবারও উত্তর কোরিয়ার নিষেধাজ্ঞা মানা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
















