মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়তেই থাকছে, যদিও ইরান হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুর প্রস্তাব দিয়েছে। বাজারে অনিশ্চয়তা না কমায় বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ এখনও কাটেনি।
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ শতাংশের বেশি বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৯ ডলার ছাড়িয়েছে। গত সপ্তাহের তুলনায় এটি প্রায় ১১ শতাংশ বেশি। বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের আশঙ্কা থেকেই এই মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি প্রস্তাব দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনা স্থগিত রাখার বিনিময়ে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া যেতে পারে। তবে এই প্রস্তাব নিয়ে এখনো প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি যুক্তরাষ্ট্র।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন হয়। গত দুই মাসে ইরানের হুমকি ও উত্তেজনার কারণে এখানে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, একদিনে যেখানে গড়ে ১২৯টি জাহাজ চলাচল করত, সেখানে এখন তা নেমে এসেছে হাতে গোনা কয়েকটিতে।
পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভিন্ন বিশ্লেষণ বলছে, প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৪৫ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন কমে গেছে। এতে বিশ্ব অর্থনীতিতেও চাপ বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এমনকি সমঝোতা হলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে। কারণ অবকাঠামোর ক্ষতি, জমে থাকা জ্বালানি পরিবহন এবং সমুদ্রপথ নিরাপদ করতে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হবে।
সব মিলিয়ে, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তার কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
















