হরমুজ উত্তেজনায় সরবরাহ ব্যাহত, ঝুঁকিতে খাদ্য উৎপাদন
দ্রুত উদ্যোগ না নিলে খাদ্য নিরাপত্তায় বড় ধাক্কার আশঙ্কা
হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনার কারণে বৈশ্বিক সার সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে আফ্রিকার খাদ্য উৎপাদনে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এই সংকট ভয়াবহ আকার নিতে পারে।
বিশ্বের একটি বড় অংশের অ্যামোনিয়া ও ইউরিয়া এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে সামান্য বিঘ্নও সরবরাহ কমিয়ে দেয় এবং সারমূল্য বাড়িয়ে তোলে, যা কৃষকদের জন্য বড় চাপ তৈরি করছে।
উপ-সাহারান আফ্রিকায় ব্যবহৃত প্রায় ৮০ শতাংশ সার আমদানি করতে হয়। ফলে বৈশ্বিক বাজারে কোনো সংকট দেখা দিলে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে এই অঞ্চলের কৃষকদের ওপর।
বিশেষ করে ক্ষুদ্র কৃষকেরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। তারা তুলনামূলক কম পুঁজির কারণে উচ্চমূল্যে সার কিনতে পারেন না, ফলে উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সার সরবরাহ মাত্র ১০ শতাংশ কমে গেলেও খাদ্যশস্য উৎপাদন প্রায় ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। এতে খাদ্যমূল্য বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে।
এই পরিস্থিতিতে আফ্রিকার দেশগুলোকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রথমত, বাজার পরিস্থিতি ও সরবরাহের তথ্য দ্রুত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করতে হবে, যাতে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া যায়।
দ্বিতীয়ত, আঞ্চলিকভাবে যৌথভাবে সার সংগ্রহ ও মজুত গড়ে তুলতে হবে, যাতে সরবরাহ সংকটে মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
তৃতীয়ত, স্থানীয় পর্যায়ে সার উৎপাদন বাড়াতে বিনিয়োগ জোরদার করতে হবে, যাতে আমদানির ওপর নির্ভরতা কমে।
চতুর্থত, ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য ভর্তুকি, সহজ ঋণ ও সহায়তা বাড়াতে হবে, যাতে তারা উৎপাদন চালিয়ে যেতে পারেন।
এছাড়া দীর্ঘমেয়াদে মাটির উর্বরতা উন্নয়ন ও টেকসই কৃষি ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া গেলে এই সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব, অন্যথায় খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
















